চিনা আগ্রাসনের জবাবে মোতায়েন ব্রহ্মস, আকাশ, নির্ভয়! চিনুন এই ভারতীয় মিসাইলগুলিকে
চিনা আগ্রাসনের জবাবে মোতায়েন ব্রহ্মস, আকাশ, নির্ভয়! চিনুন এই ভারতীয় মিসাইলগুলিকে
লাদাখে ক্রমেই পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে। এছাড়া আমেরিকার সঙ্গেও সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছি চিনের। এহেন পরিস্থিতিতে ভারত-আমেরিকাকে বার্তা পাঠাতে চিন শক্তিপ্রদর্শনের পথে হেঁটেছে বারবার। পিএলএ-র রকেট ফোর্স বাহিনী তিব্বতে বেশ কয়েকবার মিসাইল পরিক্ষণ চালিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতও চিনের বিরুদ্ধে তাদের মিসাইল তৈরি রেখেছে। চিনা আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ভারত তিন ধরনের মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে। একনজরে সেই মিসাইল সিস্টেমের বিশদ জানুন।

ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল
ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্র ভাণ্ডারের অন্যতম বড় শক্তি৷ শত্রুদেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের অন্যতম অস্ত্র এই সুপারসনিক মিসাইল৷ ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে ব্রহ্মস৷ ভূমি, জাহাজ বা যুদ্ধবিমান, তিন জায়গা থেকেই ছোঁড়া যায় এই মিসাইল৷ তাই ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীই এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে৷ এর রেঞ্জ ৫০০ কিলোমিটার। যার অর্থ তিব্বত বা হোতানে চিনের ঘাঁটিতে অনায়াসে আঘাত হানতে পারবে এই মিসাইল।

৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ছোটে
২০০৬ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে রয়েছে ব্রহ্মস৷ একাধিকবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল প্রয়োগ পরীক্ষণ করা হয়েছে৷ ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ছুটে যাওয়া ব্রহ্মস হল বিশ্বের দ্রুততম অ্যান্টি শিপ ক্রুজ মিসাইল৷ শব্দের চেয়েও ৩ গুণ বেগে ছুটে গিয়ে শত্রুর জাহাজে আঘাত হানে এই মিসাইইল৷

আকাশ
এদিকে শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম আকাশ। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যাটল ট্যাঙ্ক বা হুইলড ট্রাকের মতো মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা যায়৷ আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা ও ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয় ভারতের ৩০ বছরের পুরানো ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড-মিজ়াইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে৷ এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত অন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে নাগ, অগ্নি, ত্রিশূল ও পৃথ্বী৷

মাটি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণ করা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি
মাটি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণ করা যায় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি৷ বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করতে পারে এটি৷ যে কোনও পরিবেশে ব্যবহার করা যায় আকাশ৷ শব্দের থেকে আড়াই গুণ বেশি বেগে লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করার ক্ষমতা রয়েছে৷ কম, মাঝারি ও উঁচুতে ওড়ার সময় লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করে ধ্বংস করতে পারে৷ এটির রেঞ্জ ৮০০ কিলোমিটার।

তিন হাজারটি আকাশ তৈরি হয়েছে
এখনও পর্যন্ত তিন হাজারটি আকাশ তৈরি হয়েছে৷ ভারতীয় বায়ু সেনার কাছে রয়েছে আটটি স্কোয়াডরান৷ সাতটি আরও অর্ডার দেওয়া হয়েছে৷ প্রতিটি স্কোয়াডরানে ১২৫টি করে এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকে৷ আকাশে চারটি রাজেন্দ্র ব়্যাডার রয়েছে৷ চারটি লঞ্চার একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত৷ এগুলিকে গ্রুপ কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ প্রতিটি লঞ্চারে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ব়্যাডার থাকে৷ এটি ১৬টি লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে পারে৷ সব মিলিয়ে ব়্যাডারটি ৬৪টি লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে পারে এবং একসঙ্গে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়৷

নির্ভয়
এছাড়া রয়েছে নির্ভয়। মাটি, সমুদ্র ও আকাশ তিন জায়গা থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায় নির্ভয় ক্ষেপণাস্ত্র৷ নির্ভয় ভারতে তৈরি একটি সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র৷ এটি এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম৷ নকশা এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গ্যানাইজেশনের অধীনে থাকা এরোনটিকাল ডেভেলপমেন্ট এস্ট্যাব্লিশমেন্ট৷ ভারতের সামরিক বাহিনীর তিন শাখাই অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌবাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে৷












Click it and Unblock the Notifications