আলোচনা তথা গুলি, লাদাখে শান্তি ফেরাতে উভয় পথই খোলা রাখছে ভারত
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ফের শক্তি বাড়াচ্ছে চিনা সেনা। সূত্রের খবর, ভারত-চিন সীমান্তে চলতে থাকা উত্তেজনার পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর মোতায়েন করা হয়েছে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার চিনা সেনা। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনাও প্যাংগং এলাকায় চিনা সেনার আক্রমণ রুখতে পুরো তৈরি বলে জানা গিয়েছে।

প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরে চিনা নির্মাণ কাজ
প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরের একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে চিনা সেনা ফিঙ্গার ৫ এলাকায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে। তাছাড়া দুইদিন আগে চিনা সেনার কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। তাতে দেখা যাচ্ছে চিনের সেনা জওয়ানরা হাতে লাঠি-ছোরা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারও কারও পিঠে রাইফেলও রয়েছে।

আলোচনার মাধ্যমেই ফিরবে শান্তি
ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, যেহেতু চিনের সেনা জওয়ানরা লাঠি-ছোরা নিয়ে রয়েছে, তাই ভারতীয় সেনা তাদের বেশি কাছে আসতে দিচ্ছে না। নাহলে, যে কোনও মুহূর্তে ফের একবার গালওয়ান উপত্যকার মতো রক্তাক্ত সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ভারতের বক্তব্য, এই চলমান অস্থির পরিস্থিতি একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা যেতে পারে।

ভারত-চিন সীমান্ত চুক্তি
১৯৯৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত বেশ ভারত-চিন সীমান্ত নিয়ে সামরিক স্তরে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৯৬ সাল ও ২০০৫ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুসারে সীমান্তে সংঘর্ষের সময়ে অস্ত্রের ব্যবহার করা চুক্তিবিরুদ্ধ। চুক্তি অনুসারে প্রথাগত যুদ্ধে ব্যবহার হয় এমন কোনও অস্ত্র সীমান্ত সংঘর্ষে ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই।

প্রথাগত অস্ত্রের বদলে চিন ব্যবহার পেরেক লাগানো রড
এটাই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত চুক্তি। আর এই কারণেই প্রথাগত সামরিক অস্ত্রের বদলে চিনের সেনা ব্যবহার পেরেক লাগানো রড ব্যবহার করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার সেনা সূত্রে যে ছবি সামনে এসেছে, তা আরও একবার চিন্তা বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে প্রয়োজনে যে ভারতও গুলি চালাতে পিছপা হবে না, তা বুঝতে বাকি নেই চিনের।

সব পথ খোলা রাখছে ভারত
এই পরিস্থিতিতে যে কোনও সময় যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাল্ডোতে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে চিনা সেনাকে প্রতিহত করতে গুলি চালানোর বিষয়ে আর বাধা না থাকলেও সেই পথে হাঁটতে ইচ্ছুক নয় ভারত, কারণ তাতে পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হবে। তবে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত না হলে যে ভারত চিনকে জমি ছেড়ে দেবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে দিল্লি।












Click it and Unblock the Notifications