Caste Census: অবশেষে ভারতে জাতিভিত্তিক জনগণনা শুরু হচ্ছে, সামনে এল দিনক্ষণ
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে ভারতে জাতিভিত্তিক জনগণনা শুরু হতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের মতো শীতল বরফপ্রবণ এলাকায় গণনা শুরু হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে দেশের বাকি অংশে এই প্রক্রিয়া চলবে।
ভারত একটি বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করেন। জাতিগত জনগণনার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে জানা যাবে। এই তথ্যগুলি সরকারের নীতি নির্ধারণে এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

উদাহরণস্বরূপ, সরকার যদি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশগুলির জন্য বিশেষ কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চায়, তবে সঠিক জাতিগত তথ্য ছাড়া তা কার্যকরভাবে সম্ভব নয়। জনগণনা এই প্রয়োজন মেটাবে এবং সমাজে সমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। বিহারে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া জাতিগত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে রাজ্যের ৬৩% এর বেশি মানুষ ওবিসি এবং অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যা রাজ্যের সংরক্ষণ নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করেছে।
ব্রিটিশ শাসনকালে ১৮৮১ সাল থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ভারতে নিয়মিতভাবে জাতিগত জনগণনা করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সমাজকে আরও ভালোভাবে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী শাসন পরিচালনা করা। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালের প্রথম জনগণনায় জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। পরবর্তীকালে ১৯৬১ সাল থেকে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠন জাতিগত জনগণনা দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, সঠিক তথ্য ছাড়া সমাজে পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীগুলোর সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবশেষে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে সেই দাবিগুলির প্রতি সমর্থন জানানো হল।
এই জাতিগত জনগণনা কেবল জনসংখ্যার গণনা নয়, এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত নীতিগুলি সমাজে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে। এটি ভারতের জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।












Click it and Unblock the Notifications