দেশজোড়া করোনা আতঙ্কের মাঝে মহারাষ্ট্রে নিম্নমুখী সংক্রমণের গতি, তবে কী ‘লকডাউনেই’ মিলছে সুফল?
দেশোজোড়া আতঙ্কের মাঝে মহারাষ্ট্রে নিম্নমুখী করোনা সংক্রমণের গতি
এপ্রিলের ৪ তারিখেও যেখানে মুম্বইয়ের দৈনিক করোনা সংক্রমণ তৈরি করছিল নতুন রেকর্ড সেখানে এপ্রিলের শেষার্ধে এসে অনেকটাই কমেছে সংক্রমণের গতি। এমনকী শনিবার মুম্বইয়ে করোনার কবলে পড়েন ৫ হাজার ৮৮৮ জন। যা এপ্রিলের ৪ তারিখের থেকে ৫০ শতাংশ কম। ওইদিন শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১৬৩ জন। আর এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তবে কী লকডাউনের রাস্তায় হেঁটেই সুফল মিলতে শুরু করেছে উদ্ধবের রাজ্যে?

খানিক স্বস্তি মহারাষ্ট্রে
এদিকে পরিসংখ্যানও বলছে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ হঠাৎই কিছুটা হলেও নিম্নমুখী অভিমুখ নিয়েছে মহারাষ্ট্রে। গত ক'য়েক মাসে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ধারা বদলে গত দু'সপ্তাহে ৬০ হাজারের আশপাশেই ঘোরা ফেরা করছে মহারাষ্ট্রের দৈনিক সংক্রমণ। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে নতুন আশা। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ১৬০ জন। যা গোটা দেশের সংক্রমণ বৃদ্ধির হারের নিরিখে তুলনামূলক ভাবে বেশ কিছুটা কম।

২৪ ঘণ্টায় ২০ শতাংশ কমল সংক্রমণ
এদিকে শুধুমাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই দেখা যাচ্ছে মুম্বইয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম মানুষ করোনার কবলে পড়েছেন। দুদিন আগে মুম্বইয়ে যেখানে করোনা আক্রান্তের দৈনিক সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ২২১ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে ৬ হাজারের নীচে চলে গিয়েছে। এদিকে কিছু দিন আগেও দেশের মোট সংক্রমণের সিংহভাগ, প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল মহারাষ্ট্রের দখলে। সেই সংখ্যা সম্প্রতি নেমে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।

কমছে সংক্রমণের হার
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতেও মহারাষ্ট্রে সংক্রমণের হার ছিল ১.৩৮ শতাংশ। সহজ কথায় ১০০ জন রোগী ১৩৮ জন মানুষকে করোনার কবলে ফেলছিল সেই সময়ে। এই হার এপ্রিলে কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৩ শতাংশে। যদিও গোটা দেশে এই হার বর্তমানে ১.৩১ শতাংশ। যদিও মহারাষ্ট্রের সংক্রমণের এই পারাপতনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে রাজি নয় রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।

১৪ দিনের কার্ফুতেই পিছু হটছে করোনা ?
এদিকে করোনা রুখতে মুম্বইয়ে চলছে ১৪ দিনের কার্ফু। ১৪ এপ্রিল থেকে পয়লা মে পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলেও জানিয়েছে উদ্ধভ সরকার। ১৪ দিন ধরে চলবে কঠোর কার্ফু। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জারি রয়েছে এই কার্ফু। যা কার্যত লকডাউনের ভিন্ন রূপ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। যার জেরে বন্ধ রয়েছে সমস্ত রেস্তোরাঁ, বার সহ শপিং মল। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যাদির দোকান ছাড়া বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই। আর এই রাস্তাতেই সুফল মিলতে শুরু করেছে বলে মত অনেকের।












Click it and Unblock the Notifications