গুরুত্ব কমছে, সঙ্গে কাজের দায়িত্বও! অফিসে বাড়ছে 'কোয়ায়েট ফায়ারিং'-এর সংস্কৃতি, কী এটি? জানুন বিস্তারিত
অফিস থেকে হঠাৎ করে মেল-এর উত্তর মিলছে না? গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হচ্ছে অথচ আপনাকে ডাকা হচ্ছে না? ধীরে ধীরে কাজের দায়িত্বও কমে যাচ্ছে? এগুলো কী নিছকই কাকতালীয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এটা নতুন ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের কৌশল হতে পারে, যাকে 'কোয়ায়েট ফায়ারিং' বলা হচ্ছে।

কোয়ায়েট ফায়ারিং মানে কী? কোয়ায়েট ফায়ারিং মানে কিন্তু সরাসরি চাকরি থেকে ছাঁটাই নয়। এখানে কোনও সতর্কবার্তা, লিখিত নোটিস অথবা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত থাকে না। বরং ধীরে ধীরে কর্মীকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়। দায়িত্ব, সুযোগ, সহযোগিতা সমস্ত কিছু আস্তে আস্তে কেড়ে নেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে কর্মী নিজেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।
এই পদ্ধতিটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল অস্পষ্টতা। কোথাও লেখা নেই যে, কর্মীকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রতিদিনের কাজে বার্তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় যে, আপনি আর প্রয়োজনীয় নন। সংস্থার দিক থেকে দেখলে এতে ক্ষতিপূরণ, আইনি ঝামেলা অথবা কঠিন কথাবার্তার দায় এড়ানো যায়। কিন্তু তার মূল্য কর্মীকেই চোকাতে হয়।
বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বাড়ার পর থেকে এই প্রবণতা আরও সহজ হয়ে উঠেছে। সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে নীরবতা দিয়েই কর্মীদের উপর চাপ তৈরি করা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে বহু কর্মী নিজেদের কাজের জায়গায় বিচ্ছিন্ন এবং অসহায় বোধ করছেন। আর এই পরিস্থিতিই কুইট ফায়ারিংকে আরও বেশি জায়গা করে দিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে। কেন এমন হচ্ছে? কীভাবে ঠিক করা যাবে? এই প্রশ্নগুলোর কোনও উত্তরও পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র অনিশ্চয়তা বাড়ে। আর তার প্রভাব পড়ে গোটা টিমের উপরেও। সহকর্মীরা দেখেন, আজ অন্যের সঙ্গে হচ্ছে, কাল তাঁদের সঙ্গেও হতে পারে।
দেখতে সহজ মনে হলেও কুইট ফায়ারিং দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশ্বাস, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক নেতৃত্ব সমস্ত কিছুর অভাবই এতে প্রকাশ পায়। আসলে এটা কোনও নতুন ট্রেন্ড নয়, বরং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসের অভাবেরই প্রতিফলন।












Click it and Unblock the Notifications