এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে এবার, কড়া সতর্কতা জারি ভারতের আবহাওয়া বিভাগের
এবার বর্ষায় এল নিনোর সম্ভাবনা প্রবল। যার প্রভাব পড়বে ভারতের আবহাওয়াতেও। ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগ তাই তৎপরতার সঙ্গে বেশ কিছু সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা কৃষি, দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমডি।
ভারত এখনও বিশ্বের সবথেকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। কোভিডের পরেও অন্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে ভারতের আবহাওয়ায় এল নিনোর প্রভাব মারত্মক হতে পারে। তাই সরকার কৃষকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের ফলে বর্ষা-বিঘ্নিত আবহাওয়ার ধরণ সারা বিশ্বেই জলবায়ু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তার ফলে ভারতে খরার সম্ভাবনা প্রবল হবে। শুক্রবার আইএমডি জানিয়েছে, জুন, জুলাই, অগাস্ট মাসে এল নিনোর সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ এবং তা সেপ্টেম্বরের বেড়ে ৮০ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা।
এবার এল নিনো প্রায় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক ও আইএমডি তার মোকাবিলায় পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সভার আয়োজন করেছে। সেখানে ফলাও করে বলা হয়েছে, বর্ষা হল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির প্রাণ। দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় সেচের সুবিধা নেই, এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বর্তমান অবস্থায়।

এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে খরা মারাত্মক আকার নেবে। তার জন্যই আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন। রাজ্য সরকারগুলিকে কাস্টমাইজড পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে বলে আইএমডির তরফে জানানো হয়েছে। আইএমডি বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করেছে।
ভারতের ৭০০ বিজোড় জেলার প্রতিটির জন্য কৃষি-আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিষেবা এবং পূর্বাভাস প্রদান করবে। তা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারত সাতটি এল নিনোর সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে চারটি খরা মারাত্মক আকার নিয়েছিল। ২০০৩, ২০০৫, ২০০৯-১০ ও ২০১৫-১৬-তে মুদ্রাস্ফীতি প্রবল হয়।
তবে আইএমডির তরফে জানানো হয়েছে এবারের এল নিনো মাঝারি আকারের হবে। লা নিনা হল এল নিনোর বিপরীত এবং নিরক্ষীয় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শীতল স্রোত দ্বারা তা চিহ্নিত হয়। ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব এম রবিচন্দ্রন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যে এপ্রিলে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি।

এখন মে মাসের শেষে কী পরিবর্তন দেখা যায়, তার দিকে তাকিয়ে আবহাওয়া বিভাগ। সইমতো আপডেটে ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকারের পূর্বাভাসকরা এল নিনোর সম্ভাবনা বেড়েছে বলে দাবি করেন। এক মাস আগে ৬১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
১৯৯৭ সালে ভারতে সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কথা হল স্বাভাবিক বর্ষা কি এবারও হবে। পরপর চার বছর স্বাভাবিক বর্ষা পাওয়া কঠিন। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে সসম্ত পরিস্থিতির জন্য।












Click it and Unblock the Notifications