Indian Air Force: তিনটি গোয়েন্দা বিমান কিনতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা! আরও নিশ্ছিদ্র হবে তিনদিনের সীমান্ত
ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। শত্রুপক্ষের স্থলে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানোর ক্ষমতাকে আরও জোরদার করতে ভারত তিনটি অত্যাধুনিক 'I-STAR' গোয়েন্দা বিমান কিনতে করতে চলেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশের এলিট লিস্টে স্থান করে নেবে। এই দেশগুলির এমন উন্নত আকাশ-থেকে-ভূমি নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণের ক্ষমতা রয়েছে। ভারতও সেই ক্ষমতাধারী হতে চলেছে।
ভারতের নতুন আকাশচক্ষু 'অপারেশন সিঁদুর' এর মতো চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে এই I-STAR বিমানের প্রস্তাবনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিমানগুলি ভারতীয় বিমান বাহিনীকে শত্রুপক্ষের রাডার স্টেশন, মোবাইল এয়ার ডিফেন্স ইউনিট এবং কম্যান্ড পোস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থলে থাকা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সরবরাহ করবে। এর ফলে দূরপাল্লা থেকেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হবে। যা আধুনিক যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

ভারতের তিন প্রতিবেশী পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যেভাবে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে তাতে এই আবহে এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। এই I-STAR প্রকল্পে তিনটি অত্যাধুনিক বিমান অধিগ্রহণ করা হবে। এগুলি সম্ভবত বোয়িং বা বম্বার্ডিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক বিমান প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। তবে এই বিমানগুলিতে যে সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, তা সম্পূর্ণরূপে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-এর সেন্টার ফর এয়ারবর্ন সিস্টেমস (CABS) ইতিমধ্যেই এই উন্নত নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ সিস্টেমগুলি সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করেছে।
I-STAR সিস্টেমে এমন সক্ষমতা থাকবে যা দিন-রাত উভয় সময়েই এবং দুর্গম ভূখণ্ডেও শত্রুদের অবস্থান নির্ভুলভাবে সনাক্ত, খুঁজে বের করতে ও ট্র্যাক করতে সাহায্য করবে। এই বিমানগুলি উচ্চ উচ্চতায় এবং নিরাপদ দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারবে। যার ফলে শত্রু দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ না করেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। একবার চালু হলে, এই বিমানগুলি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গতিশীল এবং রিয়েল-টাইম চিত্র সরবরাহ করবে। যা কম্যান্ডারদের দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। I-STAR সিস্টেমে বায়ুবাহিত এবং স্থল-ভিত্তিক উভয় অংশই থাকবে, যা একটি সুসংহত গোয়েন্দা প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার সক্ষমতার কারণে, এই বিমানগুলি ভারতকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে।
এই I-STAR সিস্টেমের উন্নয়ন ভারতকে বিশ্বের এলিট ক্লাবে নিয়ে আসবে। যাদের এই ধরনের কৌশলগত আকাশ-থেকে-ভূমি নজরদারি এবং আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে। এটি শুধুমাত্র ভারতের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকেই বাড়াবে না, বরং এর প্রতিরোধের ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।
১০ হাজার কোটি টাকার এই I-STAR প্রকল্প ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আধুনিকীকরণ করবে এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতকে আরও প্রস্তুত করে তুলবে।












Click it and Unblock the Notifications