আই প্যাক হানায় ভোটের গন্ধ? সুপ্রিম কোর্টে ইডি ও তৃণমূলের দ্বন্দ্বে চড়ল রাজনৈতিক পারদ
আই প্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশি ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে চড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, গোটা ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং হস্তক্ষেপ করেছেন ও রাষ্ট্রের পুলিশের উপস্থিতিতে "প্রমাণ" নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। এই আচরণকে ইডি সরাসরি চুরি ও তদন্তে বাধা বলে চিহ্নিত করেছে।
বিচারপতি পি কে মিশ্র এর বেঞ্চে শুনানিতে ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, আই প্যাকের তল্লাশি ছিল বহু রাজ্যে ছড়ানো এক কয়লা, মানি লন্ডারিং মামলার সূত্রে। একই সময়ে দেশের দশটি জায়গায় তল্লাশি চলে। ইডির দাবি সেখানে গোপন ভোটকৌশল ও নথি থাকার কথা জেনেই তল্লাশি চালানো হয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বলের প্রশ্ন, "দুই বছর কেন অপেক্ষা করল ইডি? ভোটের আগে অভিযান চালিয়ে জনমত প্রভাবিত করা ছাড়া এর উদ্দেশ্য কী?" সিব্বলের অভিযোগ, তল্লাশির আগে থেকেই সংস্থার জানা ছিল যে আই প্যাকে রয়েছে গোপন নির্বাচন সংক্রান্ত চুক্তির নথি। তাই অভিযানকে তিনি 'দুরভিসন্ধিমূলক' বলেন।
আদালতে তিনি জানান, পঞ্চনামাতেও কোনও জব্দ করা কিছুই নথিভুক্ত হয়নি। কিন্তু ছবি তোলা বা ডেটা কপি করা সেটা আটকানোর উপায় ছিল না।
ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কমিশনার ও রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে ডিজিটাল উপকরণ ও দলিল নিয়ে বেরিয়ে যান। সংস্থার মতে, এটা সরাসরি তদন্তে বাধা ও আইন লঙ্ঘন।
মেহেতার বক্তব্য "এটাই প্রথম নয়। তদন্তকারী সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বারবার বাধার মুখে পড়ে।" তিনি অতীতে সিবিআই আটক বা তদন্ত ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
সুপ্রিম কোর্টে ইডির আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর দাওয়াই একই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও শুনানি চলছে, তাই দুই বিচারালয়ে একসঙ্গে একই রকম আবেদন 'ফোরাম শপিং' ছাড়া কিছু নয়।
বেঞ্চ অবশ্য মন্তব্য করে এ ধরনের ঘটনায় পরিস্থিতির বদল দ্রুত হয়।
আই প্যাক তল্লাশি শুধু তদন্তের নানা জটিলতা নয়, কেন্দ্র ও রাজ্য সম্পর্ক, সংস্থার ক্ষমতা ও নির্বাচন পর্বের রাজনীতিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট শুনে দেখছে,
তদন্তে কি 'রাজনৈতিক ব্যাঘাত' ঘটেছে, নাকি সংস্থার অভিযানই ছিল প্রভাব তৈরির কৌশল।
পরবর্তী শুনানিতে দুই পক্ষের যুক্তি আবারও নথিভুক্ত হবে। আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ও "দুই দিকের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে শোনার প্রয়োজন রয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications