CEC: রাজীবের স্থলাভিষিক্ত জ্ঞানেশ কুমার, ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
CEC: চমক ছাড়াই ঘোষণা করা হলো জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম। এই পদে মঙ্গলবারই কার্যকালের মেয়াদ শেষ হবে রাজীবের।
তার আগে সোমবার রাতেই ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ঘোষিত হলো জ্ঞানেশ কুমারের নাম। তিনি ১৯৮৮ সালের ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস অফিসার।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। ২২ ফেব্রুয়ারি তার শুনানি রয়েছে। সোমবারই বৈঠক ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগের জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গঠিত কমিটির।
এই কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর পাঠানো নাম থেকেই একজনকে বেছে নেয় এই কমিটি।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলায় সোমবারের বৈঠকে যোগ দিলেও রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুদিন পিছিয়ে দিতে। কিন্তু কেন্দ্রের পাল্টা বক্তব্য ছিল, নিয়োগে স্থগিতাদেশ নেই শীর্ষ আদালতের। সে কারণে স্রেফ শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদটি খালি রাখা যায় না।
প্রাক্তন আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ কুমার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকে সচিব পদে ছিলেন। তিনি অবসর নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের সচিব পদের দায়িত্ব সামলে। অমিত শাহ আবার এই মন্ত্রকের মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকাকালীন তিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এ ছা়ড়া ২০১৯ সালে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের সময় জ্ঞানেশ কুমার ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জম্মু ও কাশ্মীর ডেস্কের দায়িত্বে। ২০২৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থাকবেন জ্ঞানেশ কুমার।
উল্লেখ্য, যে নতুন আইনে নতুন কমিটিকে এই পদে নিয়োগের ভার দেওয়া হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারই প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যিনি এই কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত হলেন। এই কমিটিই জ্ঞানেশ কুমারের নাম সুপারিশ করে পাঠিয়েছিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে। তিনি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন।
২০২৯ সালেই পরের লোকসভা নির্বাচন। মনে করা হচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ শেষের আগে লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে। চলতি বছরেই বিহার বিধানসভা ভোট। তারপর ২০২৬ সালে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরী বিধানসভার ভোট।
জ্ঞানেশ কুমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যুগ্ম ও অতিরিক্ত সচিব, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের সচিবও ছিলেন। কেরল সরকারে সচিব হিসেবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
জ্ঞানেশ কুমারের জন্ম উত্তরপ্রদেশে। আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি টেক। আইসিএফএআই থেকে তিনি বিজনেস ফিনান্স ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচআইএলডি থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকনমিক্স নিয়ে পড়াশোনা সেরেছেন।
এর্নাকুলামের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, কোচিনের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, শিল্প ও বাণিজ্যের ডিরেক্টর, ত্রিবান্দ্রম বিমানবন্দর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্টের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন জ্ঞানেশ কুমার। ১৯৮৯ সালে হরিয়ানা ক্যাডারের আইএএস অফিসার বিবেক যোশীকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications