চোখ রাঙাচ্ছে মারণ ভাইরাস, করোনা ঠেকাতে টিকাকরণে নব-পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
করোনা ঠেকাতে টিকাকরণের আওতায় অধিক জনসংখ্যাকে টানার পরিকল্পনা সরকারের
এ বছরের ১৬ই জানুয়ারি দেশে প্রথম শুরু হয় জরুরিভিত্তিতে করোনা টিকাকরণ। বর্তমানে আগামী ১লা এপ্রিল থেকে টিকা পেতে চলেছেন ৪৫ বছরের উর্দ্ধের সকল ভারতীয় নাগরিক। গণ-টিকাকরণের ক্ষেত্রে এহেন সিদ্ধান্তের পরেও আরও একঝাঁক নব পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা যে করছে কেন্দ্র, শুক্রবার তেমনই ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের বক্তব্যে। 'মেড ইন ইন্ডিয়া' ভ্যাকসিনের উপর আস্থা রাখার ফলেই যে গত চারদিনে প্রায় ২কোটি নাগরিকের টিকাকরণ সম্ভব হয়েছে, তাও জানান হর্ষ।

পুরোদমে গণ-টিকাকরণের ভাবনা
১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া টিকাকরণের দ্বিতীয় পর্যায়ে ষাটোর্ধ্ব ও ৪৫ বছরের উর্দ্ধের কো-মর্বিডিটিযুক্ত নাগরিকদের টিকা দেওয়া শুরু করে কেন্দ্র। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের সম্মুখীন ভারত। ১লা এপ্রিল থেকে ৪৫ বছরের উর্দ্ধে সকল নাগরিকদেরই টিকা দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। যে ভ্যাকসিন প্ৰস্তুতে কমপক্ষে এক দশক লাগার কথা, মাত্র ১১ মাসে সেই মাইলফলক অর্জন করে যে বিজ্ঞানচর্চার শিখরে ভারত, সে কথাও শুক্রবারের 'রিশেপ টুমরো সামিট'-এ জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

ভারতের উন্নত বিজ্ঞানচর্চার নিদর্শন রাখছে কোভ্যাক্সিন
গত বছরের জানুয়ারিতে এক অজানা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে মাত্র কয়েকমাসে যেভাবে একাধিক ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে এগিয়েছেন ভারতীয় গবেষকরা, তাতে অভিভূত হর্ষ বর্ধন। তাঁর মতে, "ভারতে 'কোভিশিল্ড' ও 'কোভ্যাক্সিন'-এর মত প্রতিষেধক তৈরি হয়েছে। তবে 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর আওতায় যেভাবে 'কোভ্যাক্সিন' তৈরি করেছেন গবেষকরা, তা অতুলনীয়।" পাশাপাশি 'টেস্ট, ট্র্যাক ও ট্রিট' কৌশলেই যে সফল হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক, সে কথাও জানান হর্ষ।

২০২১-২২ বাজেটে ভ্যাকসিন খাতে বরাদ্দ ৩৫,০০০ কোটি টাকা
এ বছরের ১৬ই জানুয়ারি থেকে যেভাবে টিকাকরণ সফল করার যজ্ঞে ঝাঁপিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, তার প্রভূত প্রশংসা করেছেন হর্ষ। পাশাপাশি ২০২১-২২-এর বাজেট অধিবেশনে ভ্যাকসিন খাতে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণকেও ধন্যবাদ জানান হর্ষ। টিকাকরণের গতিবৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে সময়ের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে কেন্দ্র অর্থাৎ নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন সাইট খোলা সপ্তাহে সাত দিন দিবারাত্রই। আর এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই যে খুশি আম-আদমি, তা বলাই বাহুল্য।

টিকাকরণে সাফল্যে পিছনে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জোর
গণ-টিকাকরণ প্রকল্পকে সফল করার জন্য কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো প্রভূত সাহায্য করেছে, তাও ব্যক্ত করেন হর্ষ। 'জন ভাগিদারী আন্দোলন'-এর আওতায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, বহুজাতিক সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সিএসও এবং নারী-যুব দলগুলির মিলিত প্রয়াসেই যে সম্ভব হয়েছে গণ-টিকাকরণ, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি 'টিকাকরণ ও দেশভক্তি'-কে একই সূত্রে বেঁধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হর্ষ।












Click it and Unblock the Notifications