তালিবানি কবজায় থাকা আফগানিস্তান নিয়ে মোদী-মর্কেল আলোচনা, ক্রমেই চড়ছে কূটনৈতিক পারদ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে জার্মানির চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের এদিন ফোনে দীর্ঘক্ষণ ধরে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী। এক টুইট বার্তায় এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন যে কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে এই দিন দুই পক্ষের রাষ্ট্রনেতা নেত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যু থেকে ভিন দেশের পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

মোদী এদিন নিজের টুইটে সাফ জানিয়েছেন জার্মানি ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন দিক নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তালিবানের দখলে থাকা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দিকে কার্যত কূটনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে সেই জায়গা থেকে ভারত ও জার্মানির মতো দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে এমন আলোচনা রীতিমতো প্রাসঙ্গিক। এর আগে, চিনের তরফে কার্যত স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে তালিবানের সঙ্গে তারা বন্ধুত্বপূ্র্ণ সম্পর্ক মেনে চলতে তারা আগ্রহী। তবে আফগানিস্তানে মধ্যপন্থার ইসলামি ভাবনা চিন্তা থাকলে তবেই এই চিন তালিবানের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি বলে তালিবানকে এক বৈঠকে চিন জানিয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে যে, চিনের উত্তরের একটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোপন বৈঠকও হয়েছে। এদিকে, চিন , পাকিস্তানের মতো দেশ যেখানে তলিবানকে খোলাখুলি সমর্থন করছে,সেখানে ভারতের আবস্থান রীতিমতো প্রাসঙ্গিক। সেই জায়গা থেকে জার্মানির চ্যান্সেলারের সঙ্গে মোদীর বৈঠক রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে , তালিবানের নাম না করেই প্রধানমন্ত্রী মোদী কার্যত টুইটে চরমভাবে আক্রমণ করেন তালিবান শাসনকে। সেই টুইটে তালিবানকে বিদ্ধ করে মোদী সাফ জানিয়েছিলেন যে , হিংসার শক্তি বলে তৈরি একটি সাম্রাজ্য কেবলই খানিকদিনের জন্য স্থায়ী হয়। তা পেশীশক্তির বলে কখনওই বেশি দিনের জন্য স্থায়ী হয় না। মোদী নিজের টুইটে সাফ জানিয়েছেন যে, 'সন্ত্রাসের রাস্তা ধরে যে সাম্রাজ্য তৈরি হয়, তা কয়েকদিন হয়তো চলতে হতে পারে, তবে তা স্থায়ী হতে পারে না। বেশিদিন এরা মানবতাকে বন্ধ করে রাখতে পারে না। ' এর আগে ভারতীয় দূতাবাসে আফগানিস্তানের বুকে বিভিন্ন জায়গায় তালিবান সদস্যরা ঢুকে নথি ওলট পালট করে সেখান থেকে গাড়ি চুরি করে পালায় বলে খবর। এদিকে, এরই মাঝে আফগানিস্তান থেকে বহু ভারতীয়কে বিশেষ বায়ুসেনার বিমানে দেশে ফেরাতে মোদী সরকার প্রতিদিন কাবুল থেকে দফায় দফায় ভারতীয়দের ঘরে ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা নিয়েছে। এদিকে, ভারত জানিয়েছে ই ইমার্জেন্সি ভিসার হাত ধরে ভারতীয়দের পাশাপাশি আফগানদের এদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক দিক থেকে ভারতের স্টান্স কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে বিভিন্ন মহলে।












Click it and Unblock the Notifications