ভবিষ্যত কোভিড–১৯ ওয়েভ সেভাবে তীব্র প্রভাব ফেলবে না ভারতে, মত বিশেষজ্ঞদের
করোনা ভাইরাস নিয়ে আশার কথা শোনালেন ভারতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রাকৃতিক সংক্রমণ হয়ে যাওয়ার কারণে উচ্চ ভ্যাকসিনেশন কভারেজ ও রোগ প্রতিরোধ বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কোভিড–১৯ ওয়েভের বড় প্রভাব দেশে পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতে দৈনিক কোভিড–১৯ কেস ও মৃত্যু হ্রাস পাচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এও সুপারিশ করেছেন যে সরকারের এবার বাধ্যতামূলক মাস্কের নিয়ম শিথিল করা উচিত। অপরদিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে করোনা ভাইরাস আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

করোনার তীব্র প্রভাব ভারতে পড়ার সম্ভাবনা কম
এইমসের সিনিয়র এপিডেমিওলজিস্ট ডাঃ সঞ্জয় রাই জানান যে সার্স-কোভ-২ একটি আরএনএ ভাইরাস এবং এই মিউটেশন ঘটতে বাধ্য। এইমসের প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের কোভিড-১৯-এর কোভ্যাকসিন ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রধান গবেষক রাই জানান, গত বছর ভারতে বিধ্বংসী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ দেখা গিয়েছিল, যেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু বর্তমানে, এটি দেশের প্রধান শক্তি কারণ প্রাকৃতিক সংক্রমণ আরও ভাল এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করে। তিনি এও জানান যে উচ্চ টিকাকরণের কভারেজ ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাস ওয়েভের তীব্র প্রভাবকে কম করতে সহায়তা করবে।

মাস্ক পরার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা
রাই এও জানিয়েছেন এখনই সময় ভারতীয় সরকার বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে বিবেচনা করতে পারে। তবে প্রবীণ নাগরিক ও সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি যাঁদের রয়েছে তাঁদের অবশ্যই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে মাস্ক পরা উচিত। এইমসের এপিডেমিওলজিস্ট জোর দিয়েছিলেন যে সরকারের উচিত ভবিষ্যতের কোনও ভ্যারিয়ান্টের উত্থান নিরীক্ষণের জন্য সার্স-কোভ-২ নজরদারি চালিয়ে যাওয়া। যদিও সার্স-কোভ-২-এর ১০০০টির বেশি মিউটেশন ঘটেছে, তবে উদ্বেগের মাত্র পাঁচটি ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে।

ভারতে কোভিড মহামারি শেষের মুখে
রবিবার ভারতে ১,৭৬১টি নতুন করোনা ভাইরাস কেস সনাক্ত হয়েছে। গত ৬৮৮দিনে এটা সবচেয়ে কম করোনা কেস। ভারতে ১২৭টি মৃত্যু হয়েছে রবিবার এবং সক্রিয় কেস হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬,২৪০। এপিডেমিওলিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ চন্দ্রকান্ত লাহারিয়া জানিয়েছেন যে ভারতে নতুন ভ্যারিয়ান্ট তথা নতুন করে করোনা তীব্রতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। লাহারিয়া বলেন, ‘আমরা যদি সেরোপ্রেভালেন্স, ভ্যাকসিনেশন কভারেজ এবং ওমিক্রনের বিস্তারের প্রমাণের তথ্য বিশ্লেষণ করি, তাহলে এই উপসংহারে আসা যুক্তিযুক্ত যে ভারতে কোভিড-১৯ মহামারি শেষ হয়ে গিয়েছে।' এপিডেমিওলজিস্ট জানিয়েছেন, যে কারণটি হল প্রাকৃতিক সংক্রমণের তিনটি ওয়েভের পরে হাইব্রিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের উভয় ডোজ গ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অনুপাতের কারণে সংবেদনশীল করোনা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। লাহারিয়া এও জানিয়েছেন যে অ্যান্টিবডি মাত্রা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায় কিন্তু হাইব্রিড অনাক্রম্যতা সুরক্ষা প্রদান করে। তিনি এও যোগ করেন যে মহামারির এই পর্যায়ে, সংক্রমণ ও নতুন কোভিড-১৯ কেস উদ্বেগের বিষয় নয় এবং এই সংক্রমণের ফলাফল পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হওয়া উচিত।

তবে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে অনবরত
যদিও ভারতের এপিডেমিওলজিস্টরা অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি ট্র্যাকিং, এই দেশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ, জেনোমিক সমীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং নাগরিকদের সুপারিশকৃত ভ্যাকসিন শটগুলি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে লাহারিয়া এও বলেন, ‘সমাজ হিসাবে আমাদের করোনার সঙ্গে বসবাস করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।' লাহারিয়ার মতে, এখন সময় এসেছে ভারত সরকারের মাস্ক-সংক্রান্ত নিয়মগুলি পর্যালোচনা এবং সংশোধন করার ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার জন্য মাস্কের প্রয়োজনীয়তা দূর করা যেতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications