লকডাউনে স্তব্ধ গোটা দেশ, আচার অনুষ্ঠান ছাড়াই শেষকৃত্য মুম্বইয়ের কবরস্থান গুলিতে

লকডাউনে স্তব্ধ গোটা দেশ, আচার অনুষ্ঠান ছাড়াই শেষকৃত্য মুম্বইয়ের কবরস্থান গুলিতে

করোনার থাবায় কার্যত শুনশান গোটা দেশ। আর এরই মাঝে মৃতদের জন্য শেষযাত্রায় উপস্থিত গুটিকয়েক মানুষ। শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে নেই , শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য পুরোহিত অমিল, শুধু নতমস্তকে দুঃখজ্ঞাপন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই মৃতের পরিজনদের। এমনই দৃশ্য দেখা গেল মুম্বইয়ে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জেরে শেষযাত্রায় উপস্থিত মানুষের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছাচ্ছে না।

শেষকৃত্যেও এবার করোনার কালো ছায়া

শেষকৃত্যেও এবার করোনার কালো ছায়া

শুক্রবার রাতের খাবার খাওয়ার পরেই শশীকান্ত কাম্বলের ষাটোর্ধ্ব বাবা। কিছু পরেই তিনি মারা যান। পূর্ব আন্ধেরির মুক্তিধাম শশ্মানে শেষকৃত্যের শেষ পর্যন্ত কাম্বলের মা ও ছোট ভাই থাকতে পারেননি, কারণ সময়ের সাথে সাথে আত্মীয়-পরিজনদের ভিড় জমে উঠছিল। কাম্বলে জানান, "বাবার শেষকৃত্যের জন্য মাটির পাত্র ও ফুল কিনতে পারিনি, কারণ বাজার বন্ধ। একটি দোকান থেকে ঘি ও সাদা চাদর বাদে বাবাকে আর কিছুই দিতে পারিনি।" শশ্মান কর্তৃপক্ষ চার ঘন্টার মধ্যে কাম্বলের বাবার ছাইভস্ম সংগ্রহ করে নিতে বললে কাম্বলে পরদিন সকালে তা সংগ্রহের কথা জানান। কাম্বলে আরও জানান, " আগে হলে দাদরের চৈত্যভূমিতে ছাইভস্ম বিসর্জন করে আসতাম, কিন্তু লকডাউনের জেরে মনে হয় শেষক্রিয়া জুহুতেইসম্পন্ন করতে হবে।"

সামাজিক দূরত্বের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছেন মৃতের পরিজনেরাও

সামাজিক দূরত্বের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছেন মৃতের পরিজনেরাও

মুক্তিধাম শশ্মানের কর্মী রাজেশ মানে জানান যে, ২২শে মার্চের 'জনতা কার্ফু'-এর পর থেকেই মৃতের পরিজনের ভিড় কমেছে। করোনার ভয়ে পুরোহিতরাও আর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চাইছেন না। মানে জানান যে লকডাউনের কথা ভেবেই তাঁরা পরিমাণে কাঠ মজুত করে রেখেছেন। মোহন মোদক নামে একজন হিন্দু পুরোহিত, যিনি গত ২৫ বছর ধরে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আসছেন, এদিন জানান, "গত ১৪ই এপ্রিল থেকে আমি শেষকৃত্য সংক্রান্ত পূজাপাঠ বন্ধ রেখেছি। প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৪টি শেষকৃত্য সম্পন্নের ডাক এলেও সরকারের আদেশাবলী মেনে আমি বাইরে যাচ্ছি না। আসলে অন্তিম ক্রিয়ার আগে পূজা করাটা সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস ও ভক্তির উপর নির্ভর করছে, পূজা করা বাধ্যতামূলক না। "

মুসলিম কবরস্থান গুলিতেও লকডাউনের স্পষ্ট প্রভাব

মুসলিম কবরস্থান গুলিতেও লকডাউনের স্পষ্ট প্রভাব

অন্যদিকে শনিবার পূর্ব সান্টাক্রুজের গোলিবার সুন্নি মুসলিম কবরস্তানের গেট ছিল বন্ধ। কবরস্তানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান যে, অভ্যন্তরীণ দরগাও বন্ধ। গত তিনদিনে একটি মাত্র জানাজা হয়েছে, সেখানে মৃতের পরিজনেরা সামাজিক দূরত্ব মেনেই অন্তিম ক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। অন্য এক কর্মী ফরিদ শেখ জানান, "দু'দিন আগে ৪০দিনের এক বাচ্ছা মারা যাওয়ায় তার পরিজনেরাখুব কম সংখ্যায় অন্তিম ক্রিয়ার জন্যে সমবেত হয়। কবর দেওয়ার আগে সামাজিক দূরত্ব বজায়ের খাতিরে ফাতেহা প্রার্থনা পড়া হয়নি।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+