ওয়াকফ সংশোধনী বিলে বিশেষ একটি পরিবর্তন চায় ‘বন্ধু দল’ টিডিপি, কথা কি রাখবে বিজেপি?
ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪-এর ভাগ্য নির্ধারণের জন্য সংসদের উচ্চ-স্তরের আলোচনার দিকে সকলের নজর রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তার এনডিএ মিত্ররা-তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং জনতা দল (ইউনাইটেড); সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখলেও, টিডিপি এই বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী দাবি করতে চলেছে বলে জানা গেছে।
টিডিপি চায় যে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর ছাড়া হোক। দলটি মনে করে, এটি একটি রাজ্যের নিজস্ব বিষয় হওয়া উচিত এবং কেন্দ্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, "টিডিপি চায় যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হোক"।

তবে, টিডিপি বিলে অন্যান্য সকল সংশোধনীকে সমর্থন করবে, বিশেষ করে ওয়াকফ বোর্ডে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবকে "প্রগতিশীল পরিবর্তন" হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে। ওয়াকফ বিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে, মঙ্গলবার টিডিপি তার সকল সংসদ সদস্যের জন্য তিন লাইনের হুইপ জারি করে, যাতে তারা ২ এপ্রিল সংসদে উপস্থিত থাকেন বলে জানায়।
টিডিপি সুপ্রিমো এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বিলটি নিয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। জানা গেছে, তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন, যাতে বোঝা যায় কোন পরিবর্তন তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়।
টিডিপির জাতীয় মুখপাত্র প্রেম কুমার জৈন সাংবাদিকদের জানান, "পুরো মুসলিম সম্প্রদায় এই সংশোধনী বিলের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং আমরা তাদের স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। চন্দ্রবাবু নাইডু ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য কাজ করবেন"।
বিলের বিতর্কিত ধারাগুলোর মধ্যে একটি হল, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। যদিও টিডিপি এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, তারা আশ্বস্ত করেছে যে এই অবস্থানকে 'বৃহত্তর সংশোধনের চেষ্টা' হিসেবে দেখা উচিত নয়। এক টিডিপি নেতা এই প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা শুধুমাত্র প্রগতিশীল পরিবর্তনগুলিকে সমর্থন করছি, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী হবে"।
ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলে বলা হয়েছে যে বোর্ডের সকল সদস্যকে মুসলিম হতে হবে, এবং অন্তত দুজন মহিলা সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। তবে, বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সংসদ সদস্য, প্রাক্তন বিচারক এবং 'জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন' ব্যক্তিদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তারা মুসলিম না হলেও চলবে।
এই বিল নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে, এবং এটি পাস হলে সংখ্যালঘু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে টিডিপি-র এই নতুন দাবি বিজেপি আদৌ রাখে কিনা, তা নিয়েও থাকছে সংশয়।












Click it and Unblock the Notifications