বিজেপি ছাড়লেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, ভোটের আগেই জোর ধাক্কা পদ্ম-শিবিরে
খোদ প্রার্থীই সরে দাঁড়িয়েছিলেন নির্বাচনী লড়াই থেকে। এবার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দল ছাড়লেন ত্রিপুরায়, মেঘালয়েও ভাঙন বিজেপিতে।
২৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ত্রিপুরা বিজেপি। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস, এমনকী সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে ভেঙে নিজেরা গড়ে তুলেছিল স্বপ্নের ইমারত। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা হতেই একের পর এক ধাক্কায় সেই ইমারত ধসে যেতে বসেছে। কেউ প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছেন, কেউ আবার প্রার্থী হতে না পারে টা-টা করে গেরুয়া শিবির ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। সব মিলিয়ে ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোটের আগে বেশ চাপে বিজেপি।

বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়নি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রণজয়কুমার দেবকে। সেই ক্ষোভে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এমনকী দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি বিপ্লবকুমার দেবকে চিঠি দিয়ে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন রণজয়বাবু। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন- আমাকে ৫৫ বাগবাসা থেকে প্রার্থী করা হয়নি। সেই কারণে আমি দল থেকে পদত্যাগ করছি। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে ত্রিপুরা বিজেপি। ভোটের আগে তারা খানিক ব্যাকফুটেও।
এবার ৬০টি আসনের মধ্যে ৫১টিতে প্রার্থী দিচ্ছে বিজেপি। জোটসঙ্গী আইপিএফটিকে ছাড়া হয়েছে ৯টি আসন। আর যে আসন রণজয়বাবুকে প্রার্থী করা হয়নি বলে ক্ষোভ, সেই আসনে প্রার্থী হয়েছেন প্রদীপকুমার নাথ। ৯৩, ৯৮ ও ২০০৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জিততে পারেননি রণজয়কুমার দেব। সেই কারণেই এবারে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এমতাবস্থায় বিজেপির আরও অস্বস্তির কারণ রণজয়বাবু দলত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর আগে প্রার্থী ঘোষণার পরই ফের বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। খোদ প্রার্থীই সরে দাঁড়ালেন নির্বাচনী লড়াই থেকে। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতা জেপি নাড্ডা প্রার্থী ঘোষণার পর ঘোষিত প্রার্থী সুবল ভৌমিক নিজেই জানিয়ে দিলেন তিনি বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়বেন না। আর এই ঘোষণায় নির্বাচনের আগেই ব্যাকফুটে বিজেপি।
অন্যদিকে মেঘালয়েও বিজেপিতে ভাঙনরেখা স্পষ্ট হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শিবুন লিংডোর বোন ভায়োলেট লিংডোর ঠাঁই হয়নি প্রার্থী তালিকায়। ফলে তিনিও দল ছেড়েছেন। যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল পিপিলস পার্টিতে। উল্লেখ্য, ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট ১৮ ফেব্রুয়ারি, আর মেঘালয়ে ভোট ২৭ ফেব্রুয়ারি।












Click it and Unblock the Notifications