জাতীয় চিকিৎসক দিবসে জেনে নিন দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কে ছিলেন
দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক
প্রত্যেক বছর ১ জুলাই পালিত হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস। কিংবদন্তী চিকিৎসক ও পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম এবং মৃত্যুদিনটি পালিত হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস হিসাবে। ১৯৯১ সালে তাঁর জন্ম এবং মৃত্যুদিন ১ জুলাই প্রথম চিকিৎসক দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় সরকারের তরফে। একজন চিকিৎসকের প্রধান লক্ষ্যই হল তাঁর রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম এবং তাঁদের পুরো সময় দেওয়া। নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে চিকিৎসকরা রোগীর সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন। এইদিন সেইসব চিকিৎসকদেরই সম্মান জানানো হয়। কোভিড–১৯ মহামারির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের গুরুত্ব উপলব্ধ করতে পেরেছে সকলে। অত্যাধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসায় উপকৃত প্রত্যেকেই। আর এর পিছনে অবদান যাঁদের সেই চিকিৎসকদের শ্রদ্ধা জানাতেই মূলত পালিত হয় দিনটি। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎক আনন্দীবাই গোপালরাও জোশীর সম্বন্ধে।

আনন্দীবাইয়ের জীবনী
১৮৬৫ সালের ৩১ মার্চ আনন্দীবাই বর্তমান মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কল্যাণে এক গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেন। তাঁর প্রকৃত নাম যমুনা,যা তাঁর মা-বাবা রেখেছিলেন কিন্তু তাঁর বিয়ের পর তাঁর স্বামী নাম বদলে দেন। আনন্দীবাইয়ের যখন ৯ বছর বয়স, তখন তাঁর বিয়ে হয় ২৫ বছরের গোপালরাও জোশীর সঙ্গে। তাঁর আত্মজীবনী অনুযায়ী, বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে এই শর্তে গোপালরাও আনন্দীবাইকে বিয়ে করেন। তাঁর পরিবার মেয়েদের শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলেন বলে আনন্দীবাই একটি বর্ণও পড়তে পারতেন না। এটা সেই সময় বিশ্বাস করা হত যে শিক্ষিত মহিলাদের স্বামীদের কম বয়সে মৃত্যু হয়।

স্বামীর অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা শুরু
প্রাথমিকভাবে আনন্দীবাইয়ের পড়াশোনার ওপর কোনও আগ্রহ ছিল না। তাঁর স্বামী তাঁকে বকা দিয়ে দিয়ে পড়াশোনা শেখাতেন। শোনা যায়, স্ত্রী পড়াশোনা ফেলে বরং রান্নাঘরে গেলে তিনি তাঁকে মারধর করতেন। এই উলটো পুরাণ দেখে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা অবাক তো হতেনই, সমালোচনা করতেও ছাড়তেন না। গোপাল এতে বদলালেন না, বরং বদলে ফেললেন তাঁদের বাসস্থান। কিন্তু এরপর একটি ঘটনা তাঁর পড়াশোনার প্রতি মানসিকতাকে একেবারে বদলে দেয়। তাঁর আত্মজীবনী অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সে আনন্দীবাই তাঁর দশদিনের সন্তানকে হারান। তিনি তাঁর সন্তানের মৃত্যুতে খুবই ভেঙে পড়েন এবং চিকিৎসক হওয়ার শপথ নেন। সেই সময় শিশুদের আকস্মিক মৃত্যু খুবই ঘন ঘন হত, আনন্দীবাই তা বন্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এরপর আনন্দীবাই আরও বেশি করে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে লাগলেন এবং তাঁর শপথ পূরণ করতে আনন্দীবাইয়ের স্বামীও তাঁকে সহযোগিতা করতে লাগলেন।

বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পরেন
প্রাথমিক শিক্ষার পর আনন্দীবাই মেডিক্যালের প্রস্তুতির জন্য পেনিসিলভেনিয়াতে ওম্যান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন, যেটি বিশ্বের দু'টি মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে একটি। বিবাহিত মহিলা হয়ে বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া নিয়ে সমাজে তাঁকে প্রচুর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করে আনন্দীবাই নিজের লক্ষ্য অর্জন যাতে করতে পারেন সেদিকে মনোযোগ দেন। তাঁর স্বামী গোপালরাও তাঁকে কলকাতা থেকে জাহাজে করে নিউ ইয়র্ক পাঠান। ১৯ বছর বয়সে আনন্দীবাই ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক হন, যিনি আমেরিকা থেকে পাশ্চাত্য মেডিসিনে ২ বছরের ডিগ্রি অর্জন করে স্নাতক হন।

টিবি রোগে মারা যান আনন্দীবাই
ভারতে ফেরার পর তাঁকে রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং কোলাপুরের অ্যালবার্ট এডওয়ার্ড হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে তাঁকে মেডিক্যাল ইন-চার্জে নিয়োগ করা হয়। ২২ বছর বয়সে টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান কিন্তু আজও তিনি মহিলাদের কাছে অনুপ্রেরণা, যাঁরা শত বাধা অতিক্রম করে পড়াশোনা করতে চান।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications