যোগী জমানায় অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে! মোদীর মুখে উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলার প্রশংসা
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্টের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ক্রমশই পিছনের দিকে সরছে উত্তর প্রদেশ। এটা যোগী সরকারের পক্ষে যথেষ্টই স্বস্তির।
শুধু একের পর এক এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল কিংবা পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, উত্তর প্রদেশে আইনশৃঙ্খলার ধীরে ধীরে উন্নতি হয়েছে গত ছয় বছরে যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালে। যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাতেও উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি জোরদার করেছে।

উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী
গত রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এখ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর প্রদেশ একটা সময় মাফিয়ারাজ নিয়েই পরিচিত ছিল। প্রশ্ন উঠত সেখানকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। কিন্তু এখন এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বিশ্বাস ফেরাতে পেরেছে। উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে তীব্র বাদানুবাদের একদিন পরে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
মুখ্যমন্ত্রী রবিবারের অনুষ্ঠানে অপরাধী মোকাবিলার সময় জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। তিনিও দাবি করেছেন, উত্তর প্রদেশে আইনের শাসন ফিরেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, এখন চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজ্যের বাইরে যাওয়া যুবক-যুবতীদের পরিচয় লুকোতে হয় না। তারা অনায়াসেই নিজের জেলার নাম উল্লেখ করতে পারেন। তিনি বলেছেন, সুশাসনের প্রথম শর্ত হল নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রের তাঁর প্রশাসন কাজ করছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভিত্তি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য
প্রধানমন্ত্রী হোন কিংবা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা উন্নতির দাবির পক্ষে রয়েছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর ২০২২ সালের তথ্য। সেই তথ্য অনুযায়ী ২০২১-এ উত্তর প্রদেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর ২৮ টি রাজ্য ও ৮ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তালিকায় ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে ২৩ তম স্থানে এবং খুনের ঘটনার ক্ষেত্রে ২৪ তম স্থানে রয়েছে উত্তর প্রদেশ। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে ২৮ তম এবং মুক্তিপণ আদায়ের ক্ষেত্রে রাজ্য ৩৬ তম স্থানে রয়েছে।

রয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তারপর থেকে সেখানে এনকাউন্টারের ঘটনা শোনা গিয়েছে বারে বারে। এব্যাপারে সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে দাঙ্গায় অভিযুক্তদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আদালতে হওয়া মামলার জেরে পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণও দেয়। তবে পুরো বিষয়টিকেই যোগী সরকার আইনের শাসনের উন্নতির দোহাই দেয়।












Click it and Unblock the Notifications