করোনাকালে কোন ওষুধ মুড়ি–মুড়কির মতো খেয়েছে ভারতীয় জনতা, কী বলছে তথ্য জানেন কি?
ডোলো ৬৫০ ওষুধ কত বিক্রি হয়েছে করোনা কালে
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় থেকে ওষুধের দোকানগুলিতে মুড়ি–মুড়কির মতো বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। মানুষ কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই ওষুধ কিনে খেতে শুরু করে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে মাথাব্যথা, শরীরে বেদনার জন্য ক্রোসিন, প্যারিসিটামল ট্যাবলেট রয়েছে। কিন্তু আপনি এটা ভুল ভাবছেন। ক্রোসিন বা প্যারাসিটামল নয়, ডোলো ৬৫০ কেনার প্রবণতা মানুষের মধ্যে বেশি দেখা গিয়েছে। ২০২০ সালে মহামারির সময় থেকে শুরু করে এই ওষুধটি একনও পর্যন্ত ৫৬৭ কোটি বিক্রি হয়েছে এবং সবার শীর্ষে আছে। তাই ভারতের তৃতীয় করোনা ভাইরাস ওয়েভের সময়ও ভারতের 'প্রিয় স্ন্যাক্স’ এই ডোলো ৬৫০ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমান ট্রেন্ড। গত সপ্তাহে এই ওষুধটিকে নিয়ে নেট দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে মিম ও নানান ধরনের মজাদার পোস্ট করা হয়।

ভারতে রাজ করছে প্যারাসিটামলের ৩৭টি ব্র্যান্ড
কিন্তু এই ট্যাবলেটে এমন কি যাদু রয়েছে যে চিকিৎসকরাও তা প্রেসক্রাইব করছেন? ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে প্যারাসিটামল বিক্রির এক ঝলকের তথ্যে দেখা গিয়েছে যে ডোলো ৬৫০ এখনও সব ওষুধকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে রয়েছে। এরপরই রয়েছে ক্যালপল ও সুমো এল। এগুলি সহ প্যারাসিটামলের ৩৭টি ব্র্যান্ড ভারতের একাধিক অংশে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে।

আঞ্চলিক আধিপত্য বিশাল
মানব বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত ফার্ম আইকিউভিআইএ-এর তথ্যে দেখা গিয়েছে যে ডোলো ও ক্যালপল হল প্যারাসিটামল সেগমেন্টের প্রধান ব্র্যান্ডগুলি। ডোলো ৬৫০ প্রস্তুত করে বেঙ্গালুরুর মাইক্রো ল্যাবস লিমিটেড। অন্যদিকে ক্যালপল প্রস্তুত করে জিএসকে ফার্মাসিউটিক্যালস। এই ব্র্যান্ডগুলির প্রত্যেকটির আঞ্চলিক আধিপত্য রয়েছে এবং তা ব্যাপকভাবে চিকিৎসকরা প্রেসক্রাইব করেন।

ডোলো ৬৫০ ও ক্যালপলের বিক্রি
তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডোলো ৬৫০ বিক্রি হয়েছে ২৮.৯ কোটি, যা গত বছরের একই মাসের পরিসংখ্যানের তুলনায় ৬১.৪৫ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এই ওষুধটির বিক্রি সর্বাধিক ছিল, কারণ এই সময় দেশে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের আবির্ভাব হয়। এই ওষুধটি ওই দুই মাসে বিক্রি হয় যথাক্রমে ৪৮.৯ কোটি ও ৪৪.২ কোটি। এর বিপরীতে ক্যালপলের বিক্রি, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রি হওয়া প্যারাসিটামল ছিল, তা দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৮ কোটিতে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে তা ৫৬ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ওয়েভের সময় গত বছরের এপ্রিলে প্যারাসিটামল সর্বাধিক বিক্রি হয়েছে, যা হল ৭১.৬ কোটি। এর সঙ্গে ফেপানি, পি-২৫০, প্যাসিমল ও ক্রোসিন সহ প্যারাসিটামলের অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলিও রয়েছে।

কেন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডোলো ৬৫০
চিকিৎসক ও ফার্মাসিউটিক্যাল সংগঠনগুলি জানিয়েছে যে ক্রোসিনের বিপরীতে এটাই একমাত্র ওষুধ যা চিকিৎসকরা প্রেসক্রাইব করে আর তাই ডোলো ৬৫০-র জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে এই কারণই লুকিয়ে রয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করার আরও একটি কারণ হল সব বয়সের মানুষদের এই ডোলো ৬৫০ দেওয়া যায় এবং খুবই কম এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দিল্লির ফর্টিস হাসাপাতালের সহ-ডিরেক্টর ডাঃ রিতেশ গুপ্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'প্যারাসিটামল ব্র্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় ডোলো ৬৫০ ওষুধ, যা সময়ে পরীক্ষিত ও জ্বর সারানোর জন্য খুব সাধারণ একটি ওষুধ। ক্রোসিন, ক্যালপল, প্যাসিমলের চেয়ে এই ব্র্যান্ডটি আলাদা নয়। এটি একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওষুধ এবং সব বয়সের মানুষ এবং হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এটি গ্রহণ করতে পারেন।' ডাঃ গুপ্তা এও জানিয়েছেন যে কোভিড-১৯-এর তৃতীয় ওয়েভের প্রধান উপসর্গ হল জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও শরীরে বেদনা। এই উপসর্গগুলি হাল্কা এবং সাধারণত চার বা পাঁচদিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। অনিল নাভান্দার, যিনি মহারাষ্ট্র রাজ্য রসায়নবিদ ও ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, জানিয়েছেন, ডোলো ৬৫০ এমন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে যার নাম প্যারাসিটামলের সঙ্গে বিনিময়যোগ্যভাবে ব্যবহার করা হয় এবং সেইজন্য তার শক্তিশালী মান রয়েছে ৷

কারা প্রস্তুত করছে এই ডোলো ৬৫০
ডোলো ৬৫০ ওষুধটির প্রস্তুতকারক হল বেঙ্গালুরুর বেসরকারি ফার্ম মাইক্রো ল্যাবস লিমিটেড। এই ফার্মটি ১৯৭৩ সালে এক ফার্মাসিউটিক্যাল ডিস্ট্রিবিউটার জি.সি সুরানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সংস্থাটি বর্তমানে চালাচ্ছেন তাঁর ছেলে ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিলীপ সুরানা।












Click it and Unblock the Notifications