Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Caste Census: জাতিগণনা নিয়ে বারবার কংগ্রেসের ছিনিমিনি! হাত শিবিরের 'দ্বিচারিতা'-র পর্দাফাঁস

Caste Census: সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের দলই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দাবি করে থাকেন কংগ্রেসের নেতৃত্বরা। অথচ জাতি গণনা নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানেই দ্বিচারিতা স্পষ্ট। প্রশাসনিক উদাসীনতা, নীতি পঙ্গুত্ব থেকে শুরু করে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার রেওয়াজ কংগ্রেসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দেশের জনবিন্যাস ও সংরক্ষিত এবং অনগ্রসর-সহ প্রত্যেক শ্রেণির আর্থিক অবস্থা জানা সম্ভব জাতি গণনার মাধ্যমে। অথচ কেবল ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে সেই স্বাধীনতা থেকেই জাত গণনা করা থেকে বিরত থেকেছে কংগ্রেস। যার জেরে দেশের কাছে জাতি শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিই নেই।

দীর্ঘ শাসনকালে জাতিভিত্তিক গণনা করেনি কংগ্রেস। ফলে কোন এলাকায় কেমন জনবিন্যাস, তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে পায়নি ভারত। শেষবার সেই ১৯৩১ সালে অর্থাৎ প্রায় ৯৪ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে জাতি গণনা করা হয়েছিল। ১৯৪১ সালে জাতি শুমারি করা হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মাথা চাড়া দেওয়ায় তা প্রকাশ করা যায়নি।

census

স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে যখন প্রথম জাতি গণনা করা হয়েছিল, তারপরেও কংগ্রেস তা খারিজ করে দেয়। ফলে তারপর থেকে দশকের পর দশক ধরে জাতি গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকেছে। অন্য কোনও কারণ নয়, বরং রাজনৈতিক কারণেই এই পরিণতি হয়েছিল।

বঞ্চিতদের ন্যায্য অধিকার পাইয়ে দিতে জাতি গণনার দাবি করে আসছিল অনগ্রসর শ্রেণী প্রতিনিধি দলগুলি। তাদের কথাতেও কান দেয়নি কংগ্রেস। বঞ্চনা থেকে অনগ্রসরদের মুক্ত করার অনেক উপায় থাকতেও কংগ্রেস তা বাস্তবায়নে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। উল্টে জাতি গণনা ঝুলিয়ে রেখে অনগ্রসর শ্রেণিকে বিভিন্ন প্রকার সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-কে ২০১১ এর জনগণনার সঙ্গেই জাতিগণনা করার আর্জি জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী এম ভিরাপ্পা ময়লি। সেই আর্জি খারিজ করে দেয় শাসকদল কংগ্রেস। বিরোধীদের চাপের মুখে ২০১১ সালে সামান্য আর্থ সামাজিক জাত শুমারি করতে রাজি হয় কংগ্রেস। যদিও মূল আদমশুমারির সঙ্গে তা করা হয়নি। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায় ওই সমীক্ষা। করদাতাদের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সমীক্ষা চালিয়েও কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেনি কংগ্রেস। যার জেরে অনগ্রসর শ্রেণি, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতিরা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকেও বঞ্চনার শিকার রয়েই গিয়েছেন।

গত তিন বছরে একাধিক অবিজেপি শাসিত রাজ্য যেমন- বিহার, তেলঙ্গানা ও অন্ধপ্রদেশ জাতিগত সমীক্ষা করেছে। তা সত্ত্বেও কর্ণাটকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। কর্ণাটকের সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার ২০১৫ সালে আর্থসামাজিক ও শিক্ষাগত সমীক্ষা করে। সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা দীর্ঘদিন মাটি চাপা দিয়েই রাখা হয়। গত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাপের মুখে তা প্রকাশ করে সরকার।

এমনকি কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ওই রিপোর্ট প্রকাশের বিরোধিতা করেন। ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের অশান্তির আশঙ্কার কারণ দর্শিয়ে সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের বিরোধিতা করেন তিনি। ফলে একে দেরি, তার উপর রিপোর্টের স্বচ্ছতা নিয়ে দোলাচল। স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট জাতি গণনা না করে কংগ্রেস বারবার রাজনৈতিক মদতপুষ্ট সমীক্ষায় জোর দিয়ে এসেছে। ভোটের স্বার্থে জাতিগত ভেদাভেদে মদত দিয়েছে কংগ্রেস।

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতে বিজেপির সরকার স্বচ্ছ, যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক জাতিগত শুমারি করতে চায়। এর ফলে রাজ্যগুলিতে বিরোধী দলগুলির ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত সমীক্ষাগুলির পর্ব শেষ হবে। শুধু তাই নয়, ওই ধরনের সমীক্ষাগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির কোটি কোটি টাকা খরচের প্রবণতাও কমবে। কিন্তু কংগ্রেস সত্যিটা বলতে চায় না। বরং নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসন চায়।

অনগ্রসর শ্রেণির প্রতি কংগ্রেসের আচরণ বরাবরই লজ্জাজনক। এমন বহু উদাহরণ রয়েছে অতীতে। সনিয়া গান্ধীকে জায়গা করে দিতে প্রবীণ ওবিসি নেতা সীতারাম কেশরীকে কংগ্রেস হেডকোয়ার্টার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওবিসি মুখ্যমন্ত্রী বীরেন্দ্র পাতিলকেও অপমান করে সরিয়ে দেয় কংগ্রেস। আবার কংগ্রেসের অন্দরেই দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা করা হয়েছে দলিত নেতা জগজীবন রামকে। সংবিধানের জনক স্বয়ং আম্বেদকরকেও কোণঠাসা করেছে কংগ্রেস। হিন্দু কোড বিল নিয়ে আম্বেদকরের ইস্তফার সময় তাঁকে সমর্থন করেনি কংগ্রেস।

ভারতের দ্বিতীয় দলিত প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে কখনই এককভাবে দেখা করেননি তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী। বিজেপির মনোনীত প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু দেশের প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন করেনি। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেন সিদ্দারামাইয়াও। উপজাতিদের প্রতি কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গি এ থেকেই স্পষ্ট।

Take a Poll

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের সংরক্ষণের বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন করে। আর কেন্দ্রের এমন ইতিবাচক পদক্ষেপে গা জ্বলেছে কংগ্রেসের। তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকার তাই মামলাই করে বসে। আবার ২০২৪ সালে বিচারপতি নাগমোহন দাসের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে সংরক্ষণ নিয়ে সমীক্ষা শুরু করেছিল কর্ণাটকের সিদ্দারামাইয়ার সরকার। যদিও সিদ্দারামাইয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার পরেও ওই কমিশনের কোনও সুপারিশই বাস্তবায়ন করেনি কংগ্রেস।

জাতি গণনা নিয়ে বরাবরই বিতর্কে জড়িয়েছে কংগ্রেস। জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ২০১১ সালে আর্থসামাজিক জাতিগত সমীক্ষা শুরু করেছিল। যদিও এই সমীক্ষার ফলাফল কোনওদিন জনগণের সামনে প্রকাশই করা হয়নি। যার জেরেই ওই রিপোর্টের সত্যতা ও কংগ্রেসের সদিচ্ছা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। ১৯৮০ এর দশকে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ মেনে ওবিসিদের জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছিল ১৯৯০ সালে। কংগ্রেস তাতে সমর্থন জানালেও জাতি গণনা নিয়ে বিশদে রিপোর্ট তৈরি করা ও সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ না করার জন্য সমালোচিত হয়েছিল।

জাতি গণনার উদ্দেশ্য কেবল সংখ্যার জন্য নয়। বরং সামাজিক সমস্যা ও অসাম্য দূরীকরণ করাই উদ্দেশ্য। সর্বোপরি ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতে যাতে প্রত্যেক সম্প্রদায় সমান সুবিধা ভোগ করে তা নিশ্চিত করাই জাতিগণনার উদ্দেশ্য। কংগ্রেসের হাতে দশক ধরে ক্ষমতা ছিল, তবু তারা শুধুই উদাসীন থেকেছে। সেই দোলাচল মুছে দিয়েই কড়া হাতে জাতিগণনার পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি, যার ফলে ভারতের প্রকৃত জাতিবিন্যাস এবার প্রকাশ্যে আসতে বাধ্য।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+