১২ টাকায় পেট ভরে রুটি-সবজি থেকে ডাল-ভাত, ৪০ বছর ধরে বদলায়নি দাম, কোথায় পাবেন এই খাবার রইল ঠিকানা
১২ টাকায় পেটভরা খাবার। রুটি-সবজি থেকে শুরু করে ডাল-ভাত। সবটাই পাওয়া যাবে মাত্র বারো টাকায়। এই দুর্মূল্যের বাজারে এই দামে পেট ভরা খাবার। সকলেই জানতে চাইবেন কোথায়। রাজধানী দিল্লিতে এই খাবার গত ৪০ বছর ধরে একই দামে বিক্রি হচ্ছে সিপিএমের সদর দফতরের ক্যান্টিনে।
দিল্লির একে গোপালন ভবনে একতলার ক্যান্টিনে গত ৪০ বছর ধরে একই দামে মিলছে এই খাবার। পার্টির হোলটাইমার থেকে শুরু করে রাজ্য সভার সাংসদ সকলের জন্যই একই দাম। এবং সকলেই ক্যান্টিনের একই টেবিলে বসে খান। দিল্লির ভাইবীর সিং মার্গে রয়েছে এই ক্যান্টিন।

সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি প্রতিদিন এই ক্যান্টিনে ১২ টাকার খাবার খান। তিনি নিজেই জানিয়েছেন ১৯৮৬ সাল থেকে এই ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে আসছেন তিনি। গত ৪০ বছর ধরে এই ক্যান্টিনের খাবারের দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি।
তবে গত ৪০ বছরে ক্যান্টিনের অনেক কিছুই বদলেছে। স্যামসাংয়ের স্মার্ট ফ্রিজ এসেছে। মিক্সার এসেছে। ঠান্ডা জলের কুলার বসেছে। রান্নার বাসন বেড়েছে। ডাইনিংরুমে চেয়ার টেবিলের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু খাবারের দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। দুর্মুল্যের রান্নার গ্যাস হলেও খাবার কিন্তু ১২টাকাতেই মেলে আজও।
শুধু তাই নয় এই ক্যান্টিনের আরও একটি বড় বিষয় হল ক্যান্টিনের মধ্যে একটা বড় তালিকা দেওয়ালে টাঙানো থাকে। তাতে কার কত টাকা বাকি রয়েছে তার হিসেব থাকে। রাজ্য সভার সাংসদ হয়েও ইয়েচুরির ১৩২ টাকা ধার রয়েছে এই ক্যান্টিনে। পলিটব্যুরোর সদস্য বিজয়রাঘবের ধার রয়েছে ২৪ টাকা আর এমএ ববির ধার রয়েছে ২৫৫ টাকা। সিপিএম নেতা অশোক ধাওয়ালের ধার রয়েছে ১১৬৫ টাকা।
এই ক্যান্টিনে রাজ্যসভার সদস্য আর সাধারণ পার্টির হোলটাইমারের কোনও ফারাক নেই। সকলেই লাইনে দাঁড়িয়ে প্লেটে খাবার নেন। এমনকী বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও এই ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে যান। পদ নয় পার্টিই শেষ কথা মনে করেই সকলেই সমান সেকারণেই এই ক্যান্টিনে এই ব্যবস্থা।
১২ টাকায় শুধু সবজি-রুটি বা ডাল ভাত নয় সপ্তহে ২ দিন আমিষ খাবারও মেলে। দিনে দিনবার চা-কফি খাওয়ার সুবিধা রয়েছে। সকাল ১০টা, বিকেল সাড়ে তিনটে এবং সন্ধে ৬টায় পাওয়া যায় চা-কফি। প্রতি সোমবার চিকেন পাওয়া যায় লাঞ্চ এবং ডিনারে। আর প্রতি শুক্রবার পাওয়া যায় ডিমের ঝোল।












Click it and Unblock the Notifications