দিল্লি হিংসা: ১৭০ টি গাড়ি চোখের নিমেষে ভস্মীভূত, দগ্ধ দেহ ঘিরে হাসপাতাল দেখেছে করুণ দৃশ্য
দিল্লি হিংসা: ১৭০ টি গাড়ি চোখের নিমেষে ভস্মীভূত, দগ্ধ দেহ ঘিরে হাসপাতাল দেখেছে করুণ দৃশ্য
সোমবার সকাল থেকেই গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতাল দেখেছে একের পর এক নির্মম দৃশ্য। কারোর হাত পুড়ে গিয়েছে, তো কারোর পা। অন্যদিকে, উত্তরপূর্ব দিল্লির একাধিক জায়গায় পুড়েছে একের পর এক গাড়ি। কারোর ঘরদোর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, দাউদাউ করে জ্বলে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি। দিল্লির অশান্তি মিটতেই একের পর দগ্ধ অধ্যায় ফের উঠে আসছে এলাকাবাসীর আতঙ্কের স্মৃতিতে।

৯৭ জন থেকে এক রাতে ২০০ আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে
সোমবার জিটিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৯৭ জন আহত। আর রাত গড়াতেই আহতের সংখ্যা হুহু করে বাড়তে থাকে। আহতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২০০ তে। যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ জনে। বিভীষিকার সেই রাত এখনও জিটিবি হাসপাতাল কর্মীরা ভুলতে পারছেন না।

হাসপাতালে কেমন পরিস্থিতি ছিল সেই রাতে?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২৮ জনকে হাসপাতালে আনতেই দেখা যায়, তাঁরা সকলে মৃত। সেই সময় ১০ জন ভর্তি হল যাঁরা গুরুতর আহত ছিলেন। আর চিকিৎসার সময়ই মৃত্যু হয় তাঁদের। মুহূর্তে দাঙ্গার জন্য আলাদা করে বেডের ব্যবস্থা করে হাসপাতাল। ৫০ জন চিকিৎসকের আলাদা ট্রমা টিম তৈরি করা হয়। আলাদা করে ইমার্জেন্সি এলাকা চালু করা হয়।

সিটি স্ক্যানের জন্য যেতে হয় ২ কিলোমিটার দূরে
সোমবারের পর থেকে দেখা যায়, জিটিবি হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অগত্য়া অসহায় মানুষকে ২ কিলোমিটার দবরের রাজীব গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় চিকিৎসার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে নিরন্তর কাজ করে চলছিলেন হাসপাতালে চিকিৎসকরা। যাঁরা একের পর এক দেহ দেখেছেন, কোনওটি গুলিতে ঝাঁঝরা, কোনওি দগ্ধ আর কোনওটিতে বসানো হয়েছে ছুরির কোপ।

১৭০ টি গাড়ি পুড়ে ছাই!
বীভৎসতা যেন কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছিল না! ক্রমাগত হিংস্রতার বশে মানুষ একের পর এক গাড়ি, বাড়ি, দোকান পুড়িয়েছে। গোটা এলাকা যেন শ্মশানের নীরবতায় ছিল উত্তরপূর্ব দিল্লির। আর সেখানেই ১৭০ টি গাড়ি নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রতঅযক্ষদর্শীরা বলছেন, চোখের সামনে, একের পর এক সারির পর সারি ধরে গাড়ি পোড়ানোর তাণ্ডব চলছিল দাঙ্গার সময়। আর তার জেরে কখনও প্রবল বিস্ফোরণের আওয়াজও আসে। এলাকাবাসীরা তখন আতঙ্কে ঘরের মধ্যে। পুড়তে থাকে দুটি গ্যারাজের সমস্ত গাড়ি। পুড়ে যায় মহিন্দ্রা স্করপিও থেকে মিনি ট্রাক, ফোর্ড কিম্বা অটো রিক্সা।

পুড়েছে প্রয়োজনীয় নথি
বহু বাড়িতে যেভাবে আগুন লাগানো হয়েছে, তাতে মুহূর্তে পুড়ে গিয়েছে নথি। গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র ঝলসে গিয়েছে আগুনে। দোকানের সমস্ত জিনিস পুড়ে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছেন মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি খুঁজছে পরিত্রাণের রাস্তা।












Click it and Unblock the Notifications