বিবিসির মোদী-তথ্যচিত্র: ব্রিটেনের সম্প্রচারক ও উইকিপিডিয়াকে তলব দিল্লি আদালতের
নরেন্দ্র মোদীর বিবিসি তথ্যচিত্র সংক্রান্ত এক মামলায় ব্রিটেনের সম্প্রচারক ও উইকিপিডিয়াকে তলব করল দিল্লি আদালত। বুধবার দিল্লির রোহিনী আদালত ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরশন, উইকিমিডিয় ফাউন্ডেশন ও ইন্টারনেট আর্কাইভের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর ভিত্তি করে বিবিসি ডকুমেন্টারি প্রকাশ নিয়ে দিল্লি আদালতে মামলা করেন বিনয় কুমার সিং। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা জজ রুচিকা সিংলা এই সমন জারি করেন। সমন জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আগামী ১১ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। আবেদনকারী বিনয়কুমার সিং আদালতের কাছে তাদের এজেন্ট-সহ অভিযুক্তদের দুই খণ্ডের ডকুমেন্টারি সিরিজ 'ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন' ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো মানহানিকর সামগ্রী প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ দেওয়ার আবেদন করেন।
তিনি দুই পর্বের এই ডকুমেন্টারি সিরিজে প্রকাশিত মানহানিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরএসএস এবং ভিএইচপি-র কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আরএসএস, ভিএইচপি এবং বিজেপি এই ডকুমেন্টারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মানহানির জন্য আবেদনকারী ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও চেয়েছেন।

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিবিসি দুই খণ্ডের ডকুমেন্টারি সিরিজ 'ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন' সম্প্রচার করেছিল। এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বিবিসি দাবি করে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভারতে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। এটা একটি ঘৃণামূলক অপরাধ এবং চরমপন্থা রাজনীতি বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই তথ্যচিত্রে একথাও বলা হয় যে, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য হিংসার বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-সহ হিংসা মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের সরিয়ে দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করা।

এছাড়াও বিজেপি, আরএসএস এবং ভিএইচপির বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে তথ্যচিত্রে। তথ্যচিত্রে বলা হয়েছিল, এই হিংসায় কমপক্ষে ২ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল মুসলিম এবং উগ্রবাদী হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলি দ্বারা সংগঠিত হিংসা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই বিবিসি কৌশলগতভাবে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়ছে আদালতে। বিশেষ করে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতেই এই তথ্যচিত্র বলে অভিযোগ করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সমন জারি।












Click it and Unblock the Notifications