আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি মৃত্যুহার, করোনার দ্বিতীয় জোয়ারেও স্বস্তির বার্তা গবেষকদের
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি মৃত্যুহার, করোনার দ্বিতীয় জোয়ারেও স্বস্তির বার্তা গবেষকদের
কোভিডের দ্বিতীয় জোয়ারে কার্যত দিশেহারা অবস্থা ভারতের প্রায় ১০টি রাজ্য। যদিও প্রথম পর্যায়ের সংক্রমণের তুলনায় যে অনেকটাই স্তিমিত এইবারের সংক্রমণ, তা স্পষ্ট করেছেন গবেষকরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, সক্রিয় আক্রান্তের নিরিখে মৃত্যুহার (সিএফআর) মাত্র ১.৪% হলেও, জানুয়ারি মাস থেকে আক্রান্ত নাগরিকদের হিসাব করলে এই হার কমে দাঁড়ায় ০.৮৭%-এ! স্বাভাবিকভাবেই আগেরবারের চেয়ে এইবারের কোভিড ঢেউ যে অনেকটাই নিরীহ, সে বিষয়ে জানালেও এখনই নিচিন্ত না হওয়ার বার্তাই দিচ্ছে প্রশাসন।

দু'মাসে মৃত্যু ৬,৯৭৯ জনের
ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সূত্রে খবর, ২০২১-এর প্রথম দু'মাসে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৮.০৬ লক্ষের কাছাকাছি। যদিও ১১ই জানুয়ারি থেকে ১১ই মার্চ পর্যন্ত দু'মাসে মারা গেছেন প্রায় ৬,৯৭৯ জন, যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে বর্তমান সংক্রমণের অভিকেন্দ্র মহারাষ্ট্র। বর্তমানে দেশের মোট নবআক্রান্তের প্রায় ২০% ও কোভিডে মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশই মহারাষ্ট্রের, জানাচ্ছে সূত্র।

দেশের তুলনায় দ্বিগুণ মৃত্যুহার মহারাষ্ট্রে
বর্তমানে জাতীয় মৃত্যুর হার বা সিএফআর মাত্র ১.২% হলেও মহারাষ্ট্রে এই হার প্রায় ২.৩৮%-এর কাছাকাছি। যদিও ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ শুরুর আগে সিএফআরের মাত্রা ১%-এ থাকার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। পাশাপাশি নব সংক্রমণের জোয়ারে আক্রান্ত হলেও যে বাড়ছে না মৃত্যুসংখ্যা, সে বিষয়ে স্বস্তি দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের কোভিড নিরীক্ষক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ প্রদীপ আওয়াতে।

একদিন ৫০-৬০ জনের মৃত্যু মহারাষ্ট্রে
নব কোভিড সংক্রমণের বিষয়ে ডঃ প্রদীপের বক্তব্য, "বর্তমানে মহারাষ্ট্রে প্রত্যহ আক্রান্ত হচ্ছেন ১৩,০০০-১৪,০০০ মানুষ। যদিও প্রথমবারের সংক্রমণের এমন সময়ে প্রত্যহ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০,০০০-এরও উপরে।" পাশাপাশি আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে মহারাষ্ট্রে প্রত্যহ ২০০-৩০০ মানুষের মৃত্যু হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ৫০-৬০ জনের কাছাকাছি, খবর মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে।

নতুন আক্রান্তদের মাঝারি উপসর্গ
মহারাষ্ট্রের হাসপাতালে ভর্তি নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা দেখেই করোনার নতুন পর্যায়ের বিষয়ে আঁচ করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। পাশাপাশি গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে যেভাবে আইসিইউ ও অন্যান্য শয্যা ভর্তি হয়ে গিয়েছিল, এইসময়ের সংক্রমণে তার অর্ধেকও ভর্তি হয়নি বলে দাবি করেছেন পুনের দীননাথ মঙ্গেশকর হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডঃ ধনঞ্জয় কেলকার। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সংক্রমণের বিষয়ে ভয়ডরহীনভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে নাগরিকদের, আর তাই পুনেতে কড়া স্বাস্থ্যবিধি লাঘু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।












Click it and Unblock the Notifications