বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে আরো এক ঘূর্ণাবর্ত, ফের উসকে দিল ঘূর্ণিঝড় তেজের সম্ভাবনা
ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় তেজেরও তৈরি হওয়ার কথা ছিল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। একদিকে আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তেজ হানা দিতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানিয়েছিল বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা। তবে আইইএমডি এমন পূর্বাভাস দেয়নি।
বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস মতো বঙ্গোপসাগরের বুকেও ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তা শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারেনি। মায়ানমার সাগরে তৈরি ঘূর্ণাবর্ত অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। তবে আইএমডির পূর্বাভাস বঙ্গোপসাগরের বুকে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে।

আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় শক্তিবৃদ্ধি করে এক্সট্রিম সিভিযার সাইক্লোন বা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তার ফলে মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দুর্যোগ শুরু হয়েছে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে। তা ক্রমে গুজরাত উপকূলের দিকে সরে গিয়ে ১৫ জুন আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগর যখন ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের তাণ্ডবে উত্তাল, তখন ভারতের পূর্ব উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন একটি ঘূর্ণাবর্তা। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই ঘূর্ণাবর্তা অবস্থায় করছে। যার ফলে বঙ্গোপসাগর হয়ে উঠেছে উত্তাল।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন শ্রীলাঙ্কা উপকূল, তামিলনাড়ু উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আইএমডি জানিয়েছে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে উপকূলবর্তী এলাকায়। দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর জুড়ে নিম্নচাপ রেখা সুস্পষ্ট। ফলে আন্দামান সাগরও উত্তাল হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে পূর্ব-মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরও উত্তাল থাকবে। প্রতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। তবে এই ঘূর্ণাবর্ত গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে কিন্তু এখনও ঘূর্ণাবর্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পরিবেশ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা এখনো বেশি। তার ফলে এই ঘূর্ণাবর্তেরও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। আর ঘূর্ণাবর্ত যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে তার নাম হবে ঘূর্ণিঝড় তেজ।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় কেরল থেকে শুরু করে কর্নাটক, মহারাষ্ট্র হয়ে গুজরাত উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্রের মধ্যে তা ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি। তারপরে তা পাকিস্তান অভিমুখে চলে যাবে বলে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications