ভারতে করোনা ভাইরাসের তীব্র বৃদ্ধির জন্য বিশ্বজুড়ে প্রভাবিত কোভ্যাক্স সরবরাহ
বিশ্বজুড়ে প্রভাবিত কোভ্যাক্স সরবরাহ
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারি ভারতে সংক্রমণের তীব্রতাকে দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে টিকাকরণ শুরু হলেও ভ্যাকসিন সরবরাহে অভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই হু, ইউনিসেফ, গাভি ও সিপির পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ বছর ভারতে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের তীব্রতায় করোনা কেসের ভয়াবহতার কারণে তার প্রভাব পড়েছে কোভ্যাক্স ভ্যাকসিন সরবরাহের ওপর এবং জুনের শেষের দিকে ১৯ কোটি ভ্যাকসিন ডোজের ঘাটতি দেখা দেবে ভারতে।

কোভ্যাক্স সরবরাহ নিয়ে যৌথ বিবৃতি
বৃহস্পতিবার এই যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন সিপির সিইও ডাঃ রিচার্ড হাটচেট, ভ্যাকসিনের সহযোগী গাভির সিইও ডঃ সেঠ বার্কলে ও হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম ঘেব্রেয়াসাস। এঁদের সঙ্গে ছিলেন ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিয়েটা ফোর। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে দেশগুলি টিকা কর্মসূচিতে উন্নত তাদের কোভিড কেসগুলি হ্রাস পাচ্ছে, কমছে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গিয়েছে। তবে, বিশ্বব্যাপী ছবিটি অন্য বিষয় সম্পর্কিত।

২০০ কোটি কোভ্যাক্স সরবরাহ
বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি কোভ্যাক্স ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯-এর ভয়াবহ তীব্রতার প্রভাব আমরা দেখেছি যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন সরবরাহের ওপর।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোভ্যাক্স প্রমাণ করেছে যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের উপলব্ধতা পাওয়ার জন্য বৈশ্বিক প্রক্রিয়া হিসাবে কাজ করে, ইতিমধ্যেই এই কোভ্যাক্সের ৭ কোটি ডোজ ফেব্রুয়ারি থেকে সরবরাহ হয়েছে ১২৬টি দেশ ও অর্থনীতিতে এবং তা পৌঁছে গিয়েছে প্রত্যন্ত দ্বীপ থেকে শুরু করে উন্নত দেশে, ইতিহাসে ভ্যাকসিনগুলির সবচেয়ে জটিল বিতরণ। একমাত্র কোভ্যাক্সের কারণেই ৩৫টিরও বেশি দেশ তাদের প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডোজ পেয়েছে।

ভারতের জন্য কোভ্যাক্স সরবরাহে প্রভাব
যদিও ভারতের করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারির তীব্রতার কারণে এ বছর কোভ্যাক্সের সরবরাহের ওপর তার গুরুতর প্রভাব পড়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুনের শেষের দিকে ১৯ কোটি ডোজের অভাব দেখা দেবে ভারতে। যদিও বেশ কয়েকটি উৎপাদনকারীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে সুরক্ষিত চুক্তির মাধ্যমে বছরের শেষের দিকে কোভ্যাক্সে বিপুল পরিমাণে উপলব্ধ হবে, তবে বিবৃতিতে সতর্ক করে এও জানানো হয় যে যদি বর্তমান, জরুরি ঘাটতিটি সমাধান না করা হয় তবে পরিণতি বিপর্যয়কর হতে পারে। মহামারি নতুনভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য হটস্পটগুলিতে মারাত্মকভাবে করোনা কেসের বৃদ্ধি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এজেন্সিগুলি এখন বিভিন্ন দেশের কাছে ডোজ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপ ১৮ কোটি ডোজ ভাগ করে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এসআইআই সরবরাহ করতে পারেনি
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কিন্তু তাও আমাদের প্রয়োজন অনেক, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে তাদের যাওয়া দরকার এবং আমাদের জুনের প্রথম দিকে পদক্ষেপ শুরু করতে হবে। কমপক্ষে ১০০ কোটি ডোজ ধনী দেশগুলি আমাদের সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে ভাগ করে নেবে।' বিবৃতি অনুযায়ী, 'ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট জুনের শেষের দিকে ১৪ কোটি ডোজ সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দেশের এই জরুরী অবস্থার কারণে সরবরাহে বাধা পড়ে। ফলে কোভ্যাক্স সরবরাহ এখন আমাদের দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়েছে। এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বিশ্বের অনেক অংশে স্বাস্থ্যকর্মী বা ফ্রন্টলাইন কর্মীদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ আসেনি কারণ ভারতে করোনা সঙ্কটের কারণে সেখান থেকে প্রত্যাশিত সরবরাহ হচ্ছে না। আমাদের দেশের যে কোনও প্রান্তের স্বাস্থ্যকর্মী এবং ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের টিকা প্রদান করতে হবে। আমি মনে করি কোভ্যাক্সের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের অভাব, সরবরাহের অভাব। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দেশ নির্বাচন।'

বিশ্বের কোভিড পরিস্থিতি
কোভিড-১৯ ট্র্যাকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে বিশ্বজুড়ে করোনায় নিশ্চিত কেসের সংখ্যা ১৬৮,৭৬৯,০০০টি রিপোর্ট হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে এই মারণ ভাইরাসে মারা গিয়েছেন ৩,৫০৭,০০০ জন মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications