তৃতীয় ওয়েভের ঝুঁকির মাঝেই মহারাষ্ট্রে ফের কোভিড–১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধি, চিন্তা বাড়ল রাজ্য সরকারের
তৃতীয় ওয়েভের ঝুঁকির মাঝেই মহারাষ্ট্রে ফের কোভিড–১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধি, চিন্তা বাড়ল রাজ্য সরকারের
কিছুদিন আগেও মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ ও পজিটিভ হার হ্রাস পেতে দেখা গিয়েছিল। যার জন্য রাজ্য সরকার ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করে দেওয়ার পদ্ধতি শুরু করেছিল। কিন্তু মহারাষ্ট্রের কিছু জেলায় সাপ্তাহিক করোনা সংক্রমণ ও পজিটিভ হারের বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তার ওপর আবার ডেলটা প্লাস কেসের আতঙ্কও রয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধব ঠাকরের সরকার সতর্কতা জারি করে উচ্চ করোনা কেসের বোঝা রয়েছে যে সব জেলায় তাদের নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দশ হাজারের বেশি করোনা কেস সনাক্ত
বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে ৯,৮৪৪টি নতুন করোনা কেস এবং ১৯৭টি করোনা সংক্রান্ত মৃত্যু হয়েছে। এক সপ্তাহ পর বুধবারও এ রাজ্যে দশ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ কেস সনাক্ত হয়েছে। ১৬ জুন রাজ্যে ১০,১০৭টি করোনা কেস ধরা পড়ার পর দৈনিক সংক্রমণ দশ হাজারের নীচে চলে গিয়েছিল। মহারাষ্ট্র সরকারের নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে ১১টি জেলার সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধির হার, যা রাজ্যের গড় কেস বৃদ্ধি ০.১৫ শতাংশ থেকে বেশি এবং রাজ্যের পজিটিভ গড় হার ৪.৫৪ শতাংশ, যা ১০টি রাজ্যের চেয়ে কম।

তৃতীয় ওয়েভ আসার সম্ভাবনা এখনই নেই
অন্যদিকে রাজ্যের কোভিড টাস্ক ফোর্স খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে মহারাষ্ট্রে তৃতীয় ওয়েভের কোনও সতর্কতা নেই, তবে প্রত্যাশার আগেও এই তৃতীয় ওয়েভ চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাই আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে মহারাষ্ট্রকে।

১১টি জেলার রিপোর্ট
১১টি জেলার সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধির হার হল-
সিন্ধুদুর্গ (১.২১ শতাংশ), রত্নগিরি (০.৯৭ শতাংশ), কোলাপুর (০.৭৯ শতাংশ), সাঙ্গলি (০.৫৭ শতাংশ), সাতারা (০.৪০ শতাংশ), রায়গড় (০.৩৯ শতাংশ), পালঘর (০.২৪ শতাংশ), সোলাপুর (০.২১ শতাংশ), আহমেদনগর (০.১৯ শতাংশ), বিড় (০.১৯ শতাংশ) এবং ওসমানাবাদ (০.১৭ শতাংশ)। দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র কোভিড-১৯ কেস বৃদ্ধিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার তাড়া নেই
বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন যে কোভিড নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য এত তাড়াহুড়ো না করলেও চলবে। তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যে রাজ্যের সাতটি জেলায় সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ, সেই জেলাগুলির ওপর বেশি করে মনোযোগ দেওয়া হোক। জেলাগুলিতে করোনা টেস্ট ও টিকাকরণ বৃদ্ধি করতেও সরকারি কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। মুখমন্ত্রী জানিয়েছেন ।এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কোনও তাড়া নেই। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি যেন না নেয় স্থানীয় প্রশাসন। রায়গড়, রত্নাগিরি, সিন্ধুগুর্গ, সাতারা, সাঙ্গলি, কোলাপুর ও হিঙ্গোলি জেলার কালেক্টরদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলে জেনেছেন যে এই জেলাগুলিতে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। ঠাকরে জানিয়েছেন যে অক্সিজেন বেড, আইসিইউ বেড, তৃতীয় ওয়েভ আসার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সব জেলার হাসপাতালগুলিকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করতে হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে বিদ্যমান দ্বিতীয় ওয়েভ, ভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট এবং তৃতীয় ওয়েভের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নতি করা প্রয়োজন।

২১টি ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট কেস
বুধবার মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রাজেশ টোপে জানিয়েছেন যে রাজ্যের ৭টি জেলায় ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের ২১টি কেস সনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে রত্নাগিরিতে ৯টি, জলগাঁওয়ে সাতটি, মুম্বইয়ে ২টি এবং পালঘর, থানে এবং সিন্ধুদুর্গে একটি করে কেস পাওয়া গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে এখনও পর্যন্ত ভারতে ডেল্টা প্লাসের ৪০টি কেস, যা উদ্বেগের ভ্যারিয়ান্ট (ভিওসি), হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে। এই কেসগুলি সনাক্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র, কেরল ও মধ্যপ্রদেশ থেকে।












Click it and Unblock the Notifications