শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় ফের চরম হারে বৃদ্ধি, পুজোর আগে উদ্বেগ অব্যাহত
করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে দেশে ফের একবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। মূলত, সাত দিনের একটি গড় করলে দেখা যাচ্ছে সেই ফ্রেম অনুযায়ী করোনার দৈনিক আক্রান্তের উত্থান পতন অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে ভারতে গত ২৪ গণ্টায় করোনার জেরে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩,২৬৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৩৩৮ জন। এর আগে গতকাল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছিল ৩৭৮৭৫ জন। ফলে একনজরে দেখে নেওয়া যাক দেশের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি ও তার পরিসংখ্যান।

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি
করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর। এমনই একটি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে করোনার জেরে। দেখা যাচ্ছে সপ্তাহের মাঝ বরাবর সময়েই বারবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তামিলনাড়ু, কেরল, মিজোরাম , অসমে যেভাবে হু হু করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আতঙ্ক রয়ে যাচ্ছে। দেখা গিয়েছে মঙ্গলবার কেরলে যেখানে ২৫ হাজার ছিল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, সেখানে ৩০ হাজার ছিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বুধবার। যত সপ্তাহের দিন এগিয়েছে ততই বেড়েছে ক্রান্তের অঙ্ক। আবার সপ্তাহান্তের দিকের ট্রেন্ডে সংখ্যার কমতি দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেরল বারবার ত্রাসের সঞ্চার করছে। কেরলের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বারবার বেড়ে যাওয়াতে দৈনিক হারে দেশের সার্বিক করোনা আক্রান্তও বেশ উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে কেরল দেশে একটি বড়সড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান
করোনার জেরে দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩,২৬৩ জন হয়েছে। শেষ একদিনে মৃতের সংখ্যা ৩৩৮ জন হয়েছে। শেষ একদিনে করোনা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪০,৫৬৭ জন। এরফলে করোনার জেরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দেশে ৩,৩১, ৩৯, ৯৮১ জন। করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৩,৯৩,৬১৪ জনের মধ্যে রয়েছে মোট। সুস্থতার সংখ্যা দেশে ৩,২৩,০৪,৬১৮ জনের। মোট মৃতের সংখ্যা করোনার জেরে ৭১,৬৫,৯৭,৪২৮ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বে কার্যত ত্রাসের সঞ্চার করছে বেশ কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট। করোনার জেরে এই যে ভ্যারিয়েন্টগুলি গোটা দেশ তথা বিদেশের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের সঞ্চার করেছে , তা হল ডেল্টা, ল্যা্ম্ডা। তবে এরই সঙ্গে প্রবলবেগে মু ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। একাধিক দেশে বিশ্বে এই ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে আতঙ্কের পরিমাণ বাড়ছে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান থেকে বিভিন্ন দেশে নাগরিকরা পৌঁছেছেন। আফগানিস্তানে করোনা সম্পর্কে সেভাবে সচেতনতা দেখা যায়নি। সেই জায়গা থেকে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই।

কেরলের পরিসংখ্যান
গত ২৪ ঘণ্টায় কেরলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০,১৯৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশেই যেখানে করোনার জেরে ৩৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে কেরলেই শুধু ১৮১ জন করোনার জেরে মারা গিয়েছেন। এদিকে, কেরলের পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে যেমন আতঙ্কে রেখেছে, তেমনই দেশের বাকি বিভিন্ন রাজ্য আতঙ্কে রেখেছে দেশকে। সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দেশে কেরলের পরই রয়েছে মহারাষ্ট্রে। সেখানে বুধবার আক্রান্তের সংখ্যা, ৪১৭৪ জন, তামিলনাড়ুতে ১৫৮৭ জন আক্রান্ত, অন্ধ্রপ্রদেশে ১২১৪ জন আক্রান্ত, মিজোরামে ১২১৪ জন করোনা আক্রান্ত, কর্ণাটকে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১১০২ জন।

ভ্য়াকসিনেশনের গুরুত্ব
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ভ্যাকসিনেশন যতক্ষণ না সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ ভ্যাকসিনেশনের লাভ দেশ পাবে না। উল্লেখ্য, গবেষণা বলছে, যে সমস্ত মানুষ এখনও ভ্যাকসিন নেননি, সেই সমস্ত মানুষ করোনাকে আরও বেশি করে সংক্রমিত করছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে যাঁরা করোনাকে রুখতে টিকা নিতে অস্বস্তি বোধ করছেন, তাঁদের কারণেই বহু জায়গায় হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়ার রাস্তা বন্ধ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যগত কারণে করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মুশকিল দেখা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গ পরামর্শ কর তবেই এই ভ্যাকসিনেশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এদিকে দেশে সেপ্টেম্বর মাস থেকে শিশুদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া র পর্বের কথা আগেই ঘোষণা করেছে সরকার। সেই জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের ব্যক্তিদের তৃতীয় পর্বের ভ্যাকসিনেশন পর্যন্ত অধ্যায় চলছে। সেক্ষেত্রে দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ৮৬,৫১,৭০১ জনকে। মোট ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৭১,৬৫,৯৭,৪২৮ জন।












Click it and Unblock the Notifications