করোনা ভাইরাস ছড়াতেই টেস্ট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, নতুন প্রক্রিয়ায় কী ভাবে চলছে পরীক্ষা?
পর্যাপ্ত টেস্ট কিট না থাকায় দেশে করোনা পরীক্ষাও করা যাচ্ছে না ঠিক মতো। যার জেরে দেশে আসল আক্রান্তের সংখ্যার কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে আইএমসিআর-এর পরামর্শ অনুযায়ী, কোনও রোগীর উপসর্গ থাকলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি গুরুতর হলে তবেই করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল সেই রোগীকে।

খুব কম টেস্ট করা হচ্ছিল আগে
তবে এই বার সেই গতিপথ থেকে সরে এসেছে আইএমসিআর। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মাত্র ৪২,৭৮৮ জনের উপর করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আমেরিকার তুলনায় সংখ্যাটা ১৩ ভাগের ১ ভাগ ছিল। যা প্রয়োজনের থেকে খুবই কম। এদিকে যেই হারে দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে তাতে করোনা টেস্ট যদি আরও বেশি করে করা না হয় তবে আসল আক্রান্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। এর জেরে দেশে করোনা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে।

সংক্রমণ ছড়াতেই বাড়ানো হয়েছে টেস্টের পরিমাণ
এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাস শুরু হতেই করোনা পরীক্ষার হার বাড়িয়ে দেওয়া হয় দেশে। সীমিত টেস্ট কিটেই আরও বেশি করে পরীক্ষা শুরু হয়ে দেশে। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিএমআর-এর প্রতিনিধিও। তিনি এদিন জানান, দেশে এখনও পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার স্যাম্পেল টেস্ট করা হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে ৫৩৭৪টি স্যাম্পেল পজিটিভ। শতাংশের নিরিখে যা ৩ থেকে ৫ শতাংশের মাঝে রয়েছে।

আইএমসিআর-এর নতুন গাইডলাইন
জানা গিয়েছে করোনা সংক্রমণ চিহ্নিত করতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিল আইসিএমআর। স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই সংস্থার বেঁধে দেওয়া গাইডলাইন মেনে এযাবৎকাল সংক্রমণ প্রতিরোধে উদ্যোগ নিয়েছিল। জানা গিয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে সবার আগে সিল করা হয়েছে আঁতুড়ঘর। তারপর বাড়ানো হয়েছে নমুনা পরীক্ষার হার।
সেই সব চিহ্নিত হটস্পটগুলির বাসিন্দারা সংক্রমিতের সংস্পর্শে না আসলেও করা হচ্ছে তাঁদের পরীক্ষা। যদি তাঁদের শরীরে উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়, তবেই হবে নমুনা পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে আইসিএমআর। গত তিন সপ্তাহে পাঁচ ধরনের মানুষের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

করোনা টেস্টে কাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে?
বর্তমানে পরীক্ষা করা হচ্ছে এমন লোকেদের তালিকায় রয়েছে : যারা গত দু'সপ্তাহে বিদেশ থেকে উপসর্গ নিয়ে এসছেন, সংক্রমিতদের সংস্পর্শে এসে শরীরে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, উপসর্গ আছে এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে এমন রোগী, উপসর্গ নেই কিন্তু সংক্রমিতের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন লোকের।












Click it and Unblock the Notifications