হত্যার পর নিহতদের দেহ রান্না করে খাওয়া হয়, কেরলে মানব বলির ঘটনায় স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
হত্যার পর নিহতদের দেহ রান্না করে খাওয়া হয়, কেরলে মানব বলির ঘটনায় স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
সম্প্রতি কেরলে ধনসম্পত্তি লাভের আশায় মানুষ বলির অভিযোগ উঠেছিল এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনায় কেরল সহ সারা দেশ আতঙ্কে শিউরে উঠেছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। কোচি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস ঘটনা উঠে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা দুই মহিলাকে বলি দেওয়ার পর তাদের শরীরগুলোকে টুকরো টুকরো করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, এক একজনের দেহ প্রায় ৫৬টি টুকরো করা হয়। তারপর মৃতাদের দেহের টুকরোগুলো বাড়ির বিভিন্ন প্রান্তে পুঁতে দেওয়া হয়। দম্পতির বাড়ির দেওয়ালে নিহতদের রক্তের ছিটে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, নিহতদের দেহ রান্না করে খাওয়া হয়েছে বলেও এক অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন।

নিহতদের মাংস রান্না করে খাওয়া হয়
কোচি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ যত এগোচ্ছে, তত নৃশংস ঘটনা সামনে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে, দুই মহিলাকে তাঁরা হত্যা করেছে। হত্যার আগে ওই দুই মহিলাকা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকী যৌন হেনস্তা ওই দুই মহিলাকে করা হয় বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন। হত্যার পর প্রতিটি মহিলার দেহ ৫৬টি টুকরো করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম লায়লা স্বীকার করেছেন, হত্যার পর নিহতেদর দেহ রান্না করে তাঁরা তিনজন খেয়েছিলেন। তবে পুলিশ এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে চাইছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার ওপর পুলিস অনেকটা নির্ভর করছে। তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে দুই সপ্তাহের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহতদের দেহ ৫৬টি টুকরো করা হয়
কেরলে মানুষ বলির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে যায়। একদিন পরেই কোচি পুলিশ সেই মানব বলির নৃশংসতা প্রকাশ্যে আনল। কোচি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ইতিমধ্যে জেরায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কোচি কমিশনার সিএইচ নাগরাজু বলেছেন, প্রধান অভিযুক্ত শাফির বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তিনি শাফিকে মানসিকভাবে বিকৃত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই দম্পতিকে শফি কীভাবে এই নৃশংস ঘটনার জন্য রাজি করালো, তা জানা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। দম্পতির অতীতে অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই বলে জানা গিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতারণার ছক
কোচি কমিশনার সিএইচ নাগরাজু বলেছেন, শাফি একজন বড় অপরাধী। বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আটটা মামলা চলছে। শাফির বিরুদ্ধে একদিকে যেমন ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তেমনি প্রতারণা, মাতাল অবস্থার অশান্তির সৃষ্টি করার মতো অভিযোগ রয়েছে। কোচি পুলিশ জানিয়েছে, প্রতি বছর তার ঠিকানা পরিবর্তন করে। স্থায়ীভাবে একভাবে কোনও জায়গায় বেশিদিন থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমেই শাফি মূলত মানুষকে বোকা বানাতো। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে সম্পতি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, কিছু আচার অনুষ্ঠান করলেই আর্থিক সমৃদ্ধি হবে।












Click it and Unblock the Notifications