ভাঙছে কংগ্রেস! গোয়ায় দল ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলে ৯ হেভিওয়েট-সহ ২০০
ভাঙছে কংগ্রেস! গোয়ায় দল ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলে ৯ হেভিওয়েট-সহ ২০০
ভোটের মুখে কংগ্রেস ভেঙে সংগঠন বাড়ানোর খেলায় নেমেছে তৃণমূল। গোয়ার কংগ্রেস শিবিরে আরও ভাঙন ধরিয়ে দিল তারা। সোমবার কংগ্রেসের নয় পদাধিকারী দলবল নিয়ে পার্টি ছেড়েছিলেন। তাঁরাই প্রায় ২০০ জন কর্মীকে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন মঙ্গলবার। রাজ্যে বিধানসভার আগে আরও শক্তিক্ষয় হল কংগ্রেসের। আর বাড়ল তৃণমূল।

কংগ্রেসের ২০০ নেতা-কর্মীকে ভাঙিয়ে তৃণমূলের সংগঠন বৃদ্ধি
ভালভোই ব্লক কংগ্রেস কমিটির প্রায় ২০০ জন কর্মীকে নিয়ে ব্লক সভাপতি দশরথ মান্দ্রেকর ও আরও আটজন পদাধিকারী মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এই দলে ছিলেন রাজ্য মহিলা কংগ্রসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়া রাঠোরও। কংগ্রেসের এই ভাঙন ও তৃণমূলের সংগঠন বাড়িয়ে তোলার প্রবণতা অব্যহত থাকল গোয়ায়।

গোয়ার কংগ্রেস কমিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে! দাবি আইপ্যাকের
মঙ্গলবারই প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন আই প্যাক এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, যেহেতু ২০০ জনেরও বেশি কংগ্রেস কর্মী এবং বেশ কয়েকজন পদাধিকারী নেতা গোয়া তৃণমূলে যোগদান করেছেন এবং তাঁদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এটি নিশ্চিত হয়েছে যে গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে।

তৃণমূলই হয়ে উঠবে গোয়ায় বিজেপির মুখ্য চ্যালেঞ্জার
আইপ্যাক আরও জানায়, গোয়া কংগ্রেসের সভাপতি গিরিশ চোদনকর এবং এআইসিসি-র সিনিয়র নির্বাচন পর্যবেক্ষক পি চিদম্বরমের অধীনে কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে গোয়ায়। ফলে গোয়া এখন 'নতুন ভোরে'র দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তৃণমূলই হয়ে উঠবে গোয়ার শাসকদল বিজেপির মুখ্য চ্যালেঞ্জার।

কংগ্রেস পরিবারকে একত্রিত করার বার্তার নেপথ্যে ভাঙন
গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস বিধায়ক লুইজিনহো ফালেইরো তৃণমূলে যোগ দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি কংগ্রেস পরিবারকে একত্রিত করার জন্য এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলার জন্য টিএমসিতে যোগ দিচ্ছেন। জাতীয় কংগ্রেসকে ভেঙে গোয়ায় তৃণমূলকে নতুন কংগ্রেসে রূপদানের পালা চলছে এখন।

বিজেপির আধিপত্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল!
এআইসিসির দীনেশ গুন্ডু রাও এর আগে বলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি রাজ্যে কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য একটি বড় ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপির বামহাত ও ডানহাত হয়ে তাঁরা কাজ করছে। বিজেপি একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি। আর গোয়ায় যা ঘটছে, তা হল তৃণমূল ও আপ এখানে কাজ করছে বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে। তারা এখানে নিজেরা জেতার জন্য বা ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্টের জয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে না। বিজেপির আধিপত্য নিশ্চিত করতে তারা এখানে বদ্ধপরিকর।

কংগ্রেসের উপর দখলদারি চালিয়ে সংগঠন বাড়াচ্ছে তৃণমূল
তিনি আরও বলেছিলেন, সম্প্রতি গোয়ার ভোটের ময়দানে যে রাজনৈতিক দলগুলি আত্মপ্রকাশ করেছে, তারা কংগ্রেস প্রার্থীদের, কংগ্রেস সদস্যদের, এমনকী কাউন্সিলরদেরও অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের নিজেদের কর্মী ও নেতা নেই। তারা কংগ্রেসের উপর দখলদারি চালিয়ে সংগঠন বাড়াতে চাইছে। এই দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করতে এসেছে।

তৃণমূলের উপস্থিতি কংগ্রেসকে গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছে
কংগ্রেস গোয়া নিয়ে অন্য সমীকরণের গন্ধ পাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ করেই তৃণমূল টার্গেট করেছে গোয়াকে। গোয়ায় তাঁদের সংগঠনের ছিটেফোঁটাও ছিল না, আচমকাই কংগ্রেস ভেঙে সংগঠন বাড়াতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের এই উপস্থিতি কংগ্রেসকে গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ভাবাচ্ছে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের গোপন আঁতাত নিয়েও।

তৃণমূল জেনে-বুঝেই গোয়ায় ভাঙছে কংগ্রেস, অভিযোগ
গোয়ার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, তৃণমূলের উপস্থিতি সুবিধা করে দেবে বিজেপিরই। বিজেপির ইচ্ছাতেই তৃণমূল ও আপ গোয়ায় ঘাঁটে গেড়েছে বলে তাঁদের ধারণা। ইতিমধ্যে কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। কংগ্রেসের দুবারের মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো-সহ প্রদেশ কংগ্রেসের একটা বড় অংশ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূল গোয়ায় কংগ্রেসকে ভাঙতে সিদ্ধহস্ত। তার ফলস্বরূপ প্রতিদিনই কংগ্রেস ভেঙে তাঁরা নিজেদের দল বাড়াচ্ছে। বিরোধী দল দু-ভাগে ভাগ হলে বিজেপির জয় নিশ্চিত হবে। জেনে-বুঝে সেটাই করে চলেছে তৃণমূল।

বিজেপিকে হারিয়ে সরকার গঠন নয়, মজবুতিই লক্ষ তৃণমূলের
২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে গোয়া বিধানসভায় ভোট। সাকুল্যে আর চার মাসও বাকি নেই ভোটের। এখন তৃণমূল গোয়ায় সংগঠন গড়ে সব আসনে লড়ার পরিকল্পনা করেছে। তাঁদের এই পরিকল্পনাতেই স্পষ্ট বিজেপিকে হারিয়ে সরকার গঠন নয়, বিজেপির সরকারকে আরও মজবুত করা এবং জয় সুনিশ্চিত করাই তৃণমূলের লক্ষ্য। তৃণমূল যদি বিজেপির প্রকৃত চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার চেষ্টা করত, তবে অন্তত দু-তিন বছর আগে সংগঠন বাড়ানোর উদ্যোগ নিত। ভোটের তিনমাস আগে নয়।

তৃণমূল নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি
উল্লেখ্য, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, এবার নির্বাচনে তৃণমূল গোয়ার সবকটি আসনে প্রার্থী দেবে। অর্থাৎ কংগ্রেসকে ভেঙেই তাঁরা প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তৃণমূল নিজেদের দলে যোগদান করানোর কাজেও গতি বাড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের এমন পদক্ষেপে গোয়া কংগ্রেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তৃণমূল নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন গোয়া প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গিরীশ শী।












Click it and Unblock the Notifications