নতুন গঠিত সমবায় মন্ত্রক নিয়ে প্রশ্ন, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে লাঞ্চনার অভিযোগ বাম-কংগ্রেসের
কেন্দ্র এই প্রথম সমবায় আন্দোলনকে জোরদার করতে সমবায় মন্ত্রক (co-operation ministry) গঠন করেছে। কিন্তু বিরোধীরা এই মন্ত্রকের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কংগ্রেসের (congress) তরফে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রা
কেন্দ্র এই প্রথম সমবায় আন্দোলনকে জোরদার করতে সমবায় মন্ত্রক (co-operation ministry) গঠন করেছে। কিন্তু বিরোধীরা এই মন্ত্রকের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কংগ্রেসের (congress) তরফে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক হঠকারিতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বামেদের (left) তরফে বিষয়টিকে গণতন্ত্রের ওপরে লাঞ্ছনা বলে আক্রমণ করা হয়েছে। কেননা সমবায় হল রাজ্যের তালিকাভুক্ত।

বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়ে কটাক্ষ কংগ্রেসের
কংগ্রেসের তরফে সমবায় মন্ত্রক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের কো-অপারেটিভগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতেই বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ। কংগ্রেসের তরফে আরও বলা হয়েছে, ২০০২-এর মাল্টি স্টেট কোঅপারেটিভ সোসাইটি অ্যাক্টের মাধ্যমে সমবায়গুলির ওপরে নজরদারি করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে মহারাষ্ট্র আর গুজরাতের আখকল-সহ সমবায়গুলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে কংগ্রেস এবং এনসিপির নেতারা।

রাজনৈতিক হঠকারিতা
কংগ্রেসের তরপে কেন্দ্রের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হঠকারী বলে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে তারা বলেছে, বর্তমানে যে সমবায় আইন রয়েছে, তার প্রয়োগও সঠিকভাবে করা হয় না। একটা সময়ে শরদ পাওয়ার যখন কৃষিমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় কৃষিমন্ত্রকের অধীনে ছিল কৃষি, কো-অপারেশন এবং কৃষকদের কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলি। যদিও বর্তমানে তার বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র স্টেট কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের তছরুপের ঘটনা ধরা পড়ার পরে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহানও এই নতুন মন্ত্রক গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে
কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, নতুন গঠিত মন্ত্রকের দায়িত্ব অমিত শাহের হাতে যাওয়ার এবিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ। আর এই দুই রাজ্যই বিজেপির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে গুজরাতের নির্বাচন রয়েছে। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, দেশের সব থেকে বেশি লোকসভার আসন রয়েছে উত্তর প্রদেশে। তারপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই দুই রাজ্যই বিজেপির হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই এই পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত মহারাষ্ট্রে প্রায় ২ লক্ষ কো-অপারেটিভ সোসাইটি রয়েছে। সেখানকার সদস্য সংখ্যা ৫ কোটির ওপরে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ওই রাজ্যে ২১ হাজার প্রাইমারি এগ্রিকালচার সোসাইটি রয়েছে। সেখানে রয়েছে ৩১ টি ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক।

সিপিএম-এর অভিযোগ
সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, সংবিধানের সপ্তম তফশিল অনুযায়ী কোঅপারেটিভ সোসাইটিগুলি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রের বর্তমান পদক্ষেপ গণতন্ত্রের ওপর লাঞ্চনা বলেও মন্তব্য করে টুইট করেছেন তিনি। সীতারামের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে বেশি ঋণ দেওয়ার বন্দোবস্ত করে লুট করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এবার তা করা হচ্ছে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্করগুলির ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সিপিআই-এর ডি রাজা নতুন মন্ত্রকের গঠনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর কেনই বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications