মাঝ আকাশে রাহুলের বিমানে বিগড়ে যাওয়া, চক্রান্তের গন্ধে এফআইআর কংগ্রেসের
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের বাজার এখন গরম করে দিয়েছে রাহুল গান্ধীর বিমান বিগড়ানোর ঘটনা। মাঝ আকাশে রাহুল গান্ধীর বিমান কী ভাবে বিগড়ে গিয়েছিল তা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে কংগ্রেস।
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের বাজার এখন গরম করে দিয়েছে রাহুল গান্ধীর বিমান বিগড়ানোর ঘটনা। মাঝ আকাশে রাহুল গান্ধীর বিমান কী ভাবে বিগড়ে গিয়েছিল তা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। আর এই ঘটনার জেরে বিমানের পাইলটের বিরুদ্ধে কর্ণাটক পুলিশের কাছে এফআআইআর দায়ের করেছে কংগ্রেস। টুইটারে সেই এফআইআর কপিও পোস্ট করা হয়েছে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে হুবলি আসছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের আরও চার সদস্য। এদের মদ্যে একজন কৌশল বিদ্যার্থী। নয়াদিল্লি থেকে ভিটি-এভিএইচ স্পেশাল বিমানে চেপে হুবলি আসছিলেন রাহুল। কংগ্রেস সভাপতির অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি আকাশে ওঠার পর থেকেই যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। এই ঘটনার পিছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
Complaint to the DG&IG of Police, Karnataka, regarding the serious malfunction of the aircraft carrying Congress President @RahulGandhi pic.twitter.com/P3RJwkWOMR
— Congress (@INCIndia) April 26, 2018
কৌশল বিদ্য়ার্থী জানিয়েছেন, 'বৃহস্পতিবার সকাল ৯.২০টায় বিমান নয়াদিল্লি থেকে টেকঅফ করেছিল। বিমানে এসপিজি অফিসাররাও ছিলেন। ১০.৪৫ টা নাগাদ বিমানটি আচমকা বাঁ-দিকে হেলতে থাকে। দ্রুত গতিতে নিচে নেমেও যেতে থাকে বিমানটি। গোটা বিমানটি ভয়ঙ্করভাবে কাঁপছিল। বাইরের আবহাওয়ায় কোনও গোলমাল ছিল না। কারণ বিমানের জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল রোদ ঝলমলে ছিল চারপাশ। ঝোড়ো হাওয়ার কোনও প্রভাব ছিল না। একটা ঘরঘড় করা শব্দ সমানে শোনা যাচ্ছিল। বিমানের অটো-পাইলটও কাজ করছিল না।' কর্ণাটক পুলিশের কাছে কংগ্রেস যে অভিযোগ দায়ের করেছে তাতে এই সমস্ত বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশল বিদ্যার্থী তাঁর বয়ানে আরও জানিয়েছেন, 'তিন বারের চেষ্টায় বিমানটি ১১.২৫টায় হুবলি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সফল হয়। মাঝ আকাশ থেকে অবতরণ পর্যন্ত এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় অধিকাংশ যাত্রী মানসিকভাবে ধাক্কা ততক্ষণে ধাক্কা খেয়েছেন। উৎকন্ঠা ও আতঙ্কে ভরা ছিল যাত্রীদের মুখগুলি। এমনকী বিমানকর্মীরা স্বীকার করে নেন যে বিমানটি যে ধরনের আচরণ করছিল তা তারা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি। এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়।' তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন যে, 'বিমাটি যে অস্বাভাবিক যান্ত্রিক গোলযোগের মধ্যে পড়েছিল তা পরিস্কার। সবচেয়ে বড় কথা বিমানে যে ভাবে প্রতিটি যন্ত্র বিকল হয়ে গিয়েছিল, অটোপাইলট কাজ করছিল না তাতে সন্দেহ উদ্রেগ হবেই এবং এর পিছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।'
ডিজিসিএ-র ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ভিটি-এভিএইচ বিমানটি ড্যাসল্ট ফ্যালকন ২০০০। যার মালিক রেলিগেয়ার এভিয়েশন লিমিটেড। ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিমানটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর ডিজিসি-এ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। হুবলি-ধারওয়াদ পুলিশের ডিসিপি রেণুকা সুকুমার তথাপি এফআইআর দায়েরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোকুল রোড পুলিশ স্টেশনে পাইলটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৭ এবং ৩৩৬ সেকশনে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শাকির সান্নাধি।
সেকশন ২৮৭ মানে যান্ত্রিক পরীক্ষায় কর্তব্যে গাফিলতি, সেকশন ৩৩৬ মানে অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষাকে বিপদগ্রস্ত করা এবং জীবনকে মরণাপন্ন করা। এছাড়াও অভিযোগে এয়ারক্রাফট ১৯৩৪ অ্যাক্টের ১১ নম্বর ধারাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে ২ বছরের জন্য পাইলটের লাইসেন্স বাতিল হবে এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার আশঙ্কা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications