রাজ্যসভার অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত! বিনা দোষে 'ফাঁসির সাজা', ধনখড়ের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ কং সাংসদের
রাজ্যসভার বর্তমান অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড কংগ্রেসের রজনী পাটিল। তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কংগ্রেস সাংসদ দাবি করেছেন, তিনি তেমন কিছুই করেননি।
সংসদের কার্যক্রম রেকর্ড করার জন্য কংগ্রেস সাংসদ রজনী অশোকরাও পাটিলকে বর্তমান অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যসভা থেকে বরখাস্ত করেছেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়।
সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, শুক্রবার সংসদের কাজ নিয়ে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব-সহকারের বিবেচনা করা হয়েছে এবং যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ছিল তা তিনি নিয়েছে। অন্যদিকে কোন দোষ না করতেই তাঁকে ফাঁসির সাজা কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব উত্থাপন বিজেপির সাংসদের
মোবাইলে রেকর্ড করা রাজ্যসভার অধিবেশনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। অভিযুক্ত সাংসদকে সাসপেন্ড করতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিজেপি সাংসদ ডিভিএল নরসীমা রাও। তিনি বলেছিলেন, একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাউসের একটি ভিডিও। সেখানে সিনিয়র সাংসদদের অনুমতি ছাড়াই রেকর্ড করা হয়েছে এবং খারাপভাবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন পীযূষ গোয়েল।
|
তদন্তের নির্দেশ চেয়ারম্যানের
এরপরেই অভিযুক্ত কংগ্রেস সাংসদকে অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করে বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি কমিটি তদন্ত করে দেখবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই কমিটির সুপারিশ পাওয়া যাচ্ছে, অন্তত এই অধিবেশনের বাকি সময়টা রজনী পাতিলকে সাসপেন্জ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
প্রসঙ্গত সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। এর প্রথম পর্ব শেষ হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। তারপর তা আবার বসবে ১৩ মার্চ যা চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

সিদ্ধান্তের সমালোচনায় বিরোধীরা
এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে বলেন, প্রথমে তদন্ত তার পরে সদস্য দোষী সাব্যস্ত হলে চেয়ারম্যান সতর্ক করতে পারতেন। প্রথমবারের জন্য ক্ষমাও করা যেত। ট্রেজারি বেঞ্চের চাপে যাতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এই ধরনের ঘটনাকে গুরুতর হিসেবে না নিতে আহ্বান করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যোদব। তবে চেয়ারম্যান ধনখড় ২০১৬ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ২০১৬-তে বর্তমান পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তখন সাংসদ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সংসদের অধিবেশনের লাইভ স্ট্রিমিং করেছিলেন। সেই সময় বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া এবং কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেনুগোপাল-সহ অন্যদের নিয়ে গঠিত কমিটি মানকে সেই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ডের সুপারিষ করেছিলেন। সেই মতো কাজও হয়েছিল সেই সময়।

কিছু না করেই ফাঁসির সাজা
রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁকে বর্তমান অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ রজনী পাতিল বলেছেন, কোনও দোষ না করেই তাঁকে ফাঁসির সাজা অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, এই সাসপেনশন একটি স্পনসর্ড প্রোগ্রাম। কেননা বিরোধী সাংসদরা মোদীর বক্তব্য রাখার সময় তীব্র চিৎকার এবং স্লোগান দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি এমনভাবে ঘটল যে যদি কেউ না জেনে ভুল করে থাকেন এবং তার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবার থেকে আসা কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে তার কোনও অধিকার নেই সেখানে থাকার।












Click it and Unblock the Notifications