ঝাড়খণ্ডে ফ্লোর টেস্ট জয়ী চম্পাই সোরেন! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ
ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হলেন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন। তাঁকে সমর্থন করেছেন ৪৭ জন বিধায়ক। বিপক্ষে পড়েছে ২৯ টি ভোট। এদিন বিধানসভায় আস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন চম্পাই সোরেন। এদিন ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ফ্লোর টেস্টে অংশ নেন জমি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও। এদিন ৮১ সদস্যের বিধানসভায় আস্থা প্রস্তাবের ওপরে বিতর্ক শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় সরকার সংস্থাগুলির অপব্যবহার করছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যিনি কেন্দ্রীয় সরকার শাসন করছেন, তিনি এজেন্সির অপব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে হেমন্ত সোরেন সাধারণ মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সেই মুখ্যমন্ত্রীকে জমি কেলেঙ্কারির মামলায় গ্রেপতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসে যখনই আদিবাসীরা তাঁদের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, তখনই তাঁদের নেতৃত্বকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, গোটা দেশ দেখছে হেমন্ত সোরেনের প্রতি কতটা অবিচার করা হচ্ছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরীক্ষার আগে এক আবেগপূর্ণ বক্তৃতায় জেল বন্দি (আদালতের নির্দেশে বিধানসভা আসা) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, তিনি আজ চোখের জল ফেলবেন না। কেননা আদিবাসী ও অনগ্রসর বিভাগের কাছে কান্না কোনও ব্যাপার নয়। তিনি আরও বলেন, জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চম্পাই সোরেন শপথ নেওয়ার পরেই শাসক বিধায়কদের হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি রিসর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রবিবার বিকেলে তাঁদের রাঁচিতে ফিরিয়ে আনা হয়। জেএমএমের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, চম্পাই সোরেন ফ্লোর টেস্টে জয়ী হবেন এবং তিনি অন্তত ৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন পাবেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত দেরির অভিযোগ করে চম্পাই সোরেন সরকার গঠন করেন। ৩১ জানুয়ারি ইডি হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতারের পরে চম্পাই সোরেন ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি ৮১ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক ২৬ জন। এছাড়াও এনডিএ জোটকে সমর্থন করছেন এজেএসইউ-এর তিন বিধায়ক।
আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ৮১ জন বিধায়ক সমন্বিত হলেও, বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখানে শাসক জোট জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি-সিপিআইএমএলের ৪৮ জন সাংসদ রয়েছে। কিন্তু রাজ্যপালের কাছে জেএমএম বিধায়ক হিসেবে চম্পাই সোরেন যে চিঠি জমা দিয়েছিলেন, সেখানে ৪৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল। উল্টোদিকে, ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিজেপি জোটের বিধায়ক সংখ্যা ৩২।












Click it and Unblock the Notifications