হাসপাতালের বেড থেকেই আত্মঘাতী হামলার নির্দেশ মাসুদের, পুলওয়ামা সন্ত্রাসে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বদলা। আর এই একটি শব্দের জন্যই ঝরে গেলে ৪৯ জন সিআরপিএফ জওয়ানের প্রাণ। এই হত্যালীলা এতটাই ভয়াবহ যে গোটা বিশ্ব শইউড়ে উঠেছে। বয়ে যাচ্ছে নিন্দার ঝড়।
বদলা। আর এই একটি শব্দের জন্যই ঝরে গেলে ৪৯ জন সিআরপিএফ জওয়ানের প্রাণ। এই হত্যালীলা এতটাই ভয়াবহ যে গোটা বিশ্ব শইউড়ে উঠেছে। বয়ে যাচ্ছে নিন্দার ঝড়। তবু কোনও হেলদোল নেই সীমান্তপার সন্ত্রাসের মদতে অভিযুক্ত পাকিস্তানের। উপত্যকার বুকে সেনাবাহিনীর উপরে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার নির্দেশ সীমান্তপার থেকে এসেছিল তার যাবতীয় তথ্য নাকি ইনটেলিজেন্স-এর হাতে চলে এসেছে। এই সব প্রমাণের হাত ধরেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইনটেলিজেন্স সূত্রে দাবি করা হয়েছে, উপত্যকার বুকে বড় ধরনের আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার নির্দেশ দিয়েছিল জইশ-ই-মহম্মদ-এ প্রধান মাসুদ আজাহার। এই নির্দেশ সে হাসপাতালের বেড থেকে দিয়েছিল। গত চার মাস ধরে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে মাসুদ আজহারের। সে টার্মিনাল ইলনেসে অসুস্থ। যার জন্য সে ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল বা ইউজিসি-র ছ'টি বৈঠকেও হাজির হতে পারেনি।
ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল বা ইউজিসি হল পাকিস্তানের মাটি থেকে চলা জঙ্গি সংগঠনগুলির একটি ফোরাম। যার মূল উদ্দেশ্য় হল ভারতের মাটিতে সন্ত্রাস হামলা। ইনটেলিজেন্স সূত্রে খবর পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার আট দিন আগে একটি অডিও টেপে জইশ-ই-মহম্মদ-এর জঙ্গি কমান্ডারদের কিছু নির্দেশ দেয়। এই অডিও মেসেজে আজহার মাসুদ তাঁর ভাগ্নে উসমানের মৃত্যুর বদলা নিতে আহ্বান করেছে। ৩০ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীরে এনকাউন্টারে উসমানের মৃত্যু হয়। অডিও টেপে মাসুদ নাকি জানায়, 'যুদ্ধে গিয়ে প্রাণত্যাগ করার থেকে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না।' সেই সঙ্গে মাসুদ নাকি এই অডিও টেপে এটাও বলে যে কী ভাবে দিনের পর দিন তাঁর নেতৃত্বে বহু মানুষ কাশ্মীরের বুকে 'জেহাদি'-র জন্য় লড়াই করছে।

ইনটেলিজেন্সের এই সূত্রে দাবি করা হয়েছে মাসুদ তাঁর এই অডিও বার্তায় এটাও বলেছে যে, 'কেউ এটাকে নৃশংসতা বলবে, কেউ এটাকে মূর্খের মতো কাজ বলবে, কেউ এটাকে পাগলামি বলবে, কেই এটাকে আবার শান্তির পক্ষে বিপজ্জনক বলবে।' এই অডিও বার্তায় এর থেকে বেশি কিছু না কি মাসুদ শেয়ার করেনি। কাশ্মীরে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় তার কী পরিকল্পনা কাজ করছে তা সে কিছুই বলেনি। একমাত্র তার বিশ্বস্ত কিছু অনুচর এবং ভাগ্নে মহম্মদ উমর ও আব্দুল রশিদ গাজিকে এই টেপের সাহায্য়ে কাশ্মীরি ছেলে-দের ব্রেন-ওয়াশ করার নির্দেশ নাকি দেয় এবং তারা যাতে আত্মঘাতী আইইডি বিস্ফোরণ অভিযানে যেতে রাজি হয় সে জন্য তাদের রাজি আদায়েরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
কাশ্মীরের বুকে গোয়েন্দা কার্যকলাপ চালানো এক ইনটেলিজেন্স অফিসার জানিয়েছেন, এই কাজের জন্য জইশ-ই-মহম্মদ-এর কোনও নেতা সামনে আসেনি। এরা সকলে দক্ষিণ কাশ্মীরে লুকিয়ে সমানে আদিল দারের মতো বিপথগামী যুবকদের নিশানা করেছিল জঙ্গি হামলায় মানববোমা হিসাবে ব্যবহার করতে। ইনটেলিজেন্স সূত্রে দাবি এই মুহূর্তে উপত্যকায় জইশ-এর ৬০ জন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জন পাকিস্তানের বাসিন্দা। বাকিরা উপত্যকার স্থানীয় ছেলে।
কাশ্মীরের বুকে আইইডি বিস্ফোরণ যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ হতে পারে তা নিয়ে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরবাদে-র টাউন হলে ইউজেসি-র একটি বৈঠকে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে হাজির ছিল হিজবুল মুজাহিদিনের সিনিয়র কমান্ডার সৈয়দ উসমান শাহ, ডেপুটি চিফ ইমতিয়াজ আলম, ঝিলম ভ্যালি-র লঞ্চিং চিফ ডক্টর আবু খালিদ, তেহরিক-উল-মুজাহিদিন-এর চিফ শেখ জামিলুল রেহমান, জইশ-ই-মহম্মদ-এর চিফ বিলাল কাশ্মীরি এবং আইএসআই-এর বিগ্রেডিয়ার জুবেইর।












Click it and Unblock the Notifications