করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন পথের দিশা দেখাচ্ছে আয়ুর্বেদ, তৈরি হচ্ছে চার ধরনের ওষুধ
করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন পথের দিশা দেখাচ্ছে আয়ুর্বেদ, তৈরি হচ্ছে চার ধরনের ওষুধ
গত কয়েকমাসে বিশ্বে দাপিয়ে বেড়ানো করোনা ভাইরাসকে কেউই বাগে নিয়ে আসতে পারেনি। আমেরিকার তাবড় তাবড় বৈজ্ঞানিকরাও এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এবার হয়ত ভারতই করোনাকে পরাস্ত করার পথ বাতলাবে। অন্তত সেরকমই তোড়জোড় চলছে। আয়ুষ মন্ত্রক ও কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)–এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে কোভিড–১৯–এর বিরুদ্ধে চারটি বৈধ আয়ুর্বেদিক ওষুধের ফর্মুলেশন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রীপদ ওয়াই নায়েক টুইটারে জানিয়েছেন এই তথ্য। তিনি জানান যে একসপ্তাহের মধ্যে এই ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে দেওয়া হবে।

কাজ চলছে ৪টে আয়ুর্বেদিক ওষুধের ওপর
মন্ত্রী টুইটে বলেন, ‘আয়ুষ মন্ত্রক ও সিএসআইআর যৌথভাবে করোনার বিরুদ্ধে আয়ুর্বেদিক চারটে ওষুধের ওপর কাজ করছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তার পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হবে।' মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত এবং আশাবাদী যে আমাদের চিরাচরিত ও প্রাচীন ঔষধি পদ্ধতি এই মহামারির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সফল হবে।

ফলাফল জানা যাবে তিনমাসের মধ্যে
সিএসআইআরের ডিরেক্টর-জেনারেল শেখর মান্ডে ও আয়ুর্বেদ ও আয়ুষ সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচা বুধবার জানিয়েছেন যে এই ওষুধ তৈরির পদ্ধতির ফলাফল তিনমাসের মধ্যেই জানা যাবে। মান্ডে বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সিএসআইআর ও আয়ুষ যৌথভাবে চারটে ভিন্ন পদ্ধতির ওষুধ প্রস্তুতি করছে তা ঘোষণা করেছিলেন।' কোটেচা জানিয়েছেন, আয়ুষ ও সিএসআইআর সমন্বয় বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গী দেখাবে। তিনি বলেন, ‘এটা একবারের জন্য আজীবনের সুযোগ। আমাদের দেশে আগে কখনও এ ধরনের পরীক্ষা হয়নি। এই চারটে ওষুধ হল অশ্বগন্ধা, যষ্ঠীমধু (মুলেঠি), গুরুচি ও পিপালি (গিলয়) এবং আয়ুষ-৬৪, যা ম্যালেরিয়া রোগের জন্য আবিষ্কার করা হয়েছিল এবং তারই পুর্ননির্মাণ চলছে।' কোটেচা আরও বলেন, ‘তাই আমরা দু'ধরনের উদ্দীপকের ওপর অধ্যয়ন করছি, অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হবে কোভিডে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার ওপর। আমরা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং অশ্বগন্ধার মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক অধ্যয়নের পরিকল্পনাও করেছি।' আয়ুষ সচিব জানিয়েছেন যে এই চার ধরনের ওষুধ কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।

প্রাচীন ওষুধের ওপরই ভরসা রাখতে বলছে আয়ুষ মন্ত্রক
আয়ুষ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ওষুধের প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে আইসিএমআরের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। মান্ডে জানিয়েছেন হাজার বছরের পুরনো ঔষধি পদ্ধতিকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে আয়ুর্বেদ। এই ভেষজ পদ্ধতির ওপর আস্থা রাখা যায়। তিনি জানান, হয়ত আধুনিক ওষুধ যা কয়েকদিনের মধ্যে করে দেখায় আয়ুর্বেদ হয়ত তা পারে না, কিন্তু এর কাজ ধীরগতিতে হলেও নিশ্চিত ফল পাওয়া যায়। এটা মনে রাখতে হবে আধুনিক ঔষধ অভ্যাসের অনেক আগে আয়ুর্বেদ এসেছিল এই দেশে।

করোনা ভাইরাসের কোনও ওষুধ তৈরি হয়নি
করোনাভাইরাস রোগের এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ বার হয়নি। তাই চিকিৎসকরাও পরীক্ষামূলকভাবেই এই রোগের চিকিৎসা করছেন নানা রকম ওষুধ দিয়ে। কখনও ফল পাওয়া যাচ্ছে কখনও আবার বিফল হতে হচ্ছে তাঁদের। এই জীবানুর বৈশিষ্ঠ নিয়ে এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছে বিজ্ঞানীরা।












Click it and Unblock the Notifications