লোকসভায় শপথের সময় 'জয় প্যালেস্তাইন' স্লোগান! সাংসদ পদ যেতে পারে ওয়েইসির, ঠিক কী নিয়ম রয়েছে
মঙ্গলবার আসাদউদ্দিন ওয়েইসি শপথ নিতে গেলে, বিজেপির সাংসদরা জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাতে বিচলিত হননি ওয়েইসি। তিনি জয় ভীম, জয় মীম, জয় তেলেঙ্গানা এবং জয় প্যালেস্তাইন বলে শেষ করেন। যা নিয়েই এখন উত্তপ্ত রাজনীতি।
প্রোটেম স্পিকার এই স্লোগানকে রেকর্ড থেকে বাদ দিয়েছেন। তবে অনেক সিনিয়র আইনজীবী আসাদউদ্দিন ওয়েইসির সদস্যপদ বাতিলের দাবি করেছেন। এব্যাপারে সংবিধানের ১০২(৪) ধারার কথা বলা হয়েছে।

- কী বলেছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি
সাধারণভাবে শপথ গ্রহণের সময় সাংসদরা নিজের রাজ্য কিংবা দেশের কথাই বলে থাকেন। তবে ওয়েইসির মতো একজন নেতার সংসদে অন্য দেশের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। তিনি বলেছিলেন জয় প্যালেস্তাইন। এব্যাপারে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন, ফিলিস্তিনি কিংবা অন্য দেশের প্রতি ভারতের কোনও শত্রুতা নেই। কিন্তু শপথের সময় অন্য দেশের কথা বলা উচিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- কী বলছেন, আইনজীবীদের একাংশ
১৮ তম লোকসভার প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এই ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, তিনি প্রান্তিক মনুষজনের কথা তুলতে থাকবেন। বিজেপি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করেছে। এছাড়াও আইনজীবী বিনীত জিন্দাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আনুগত্য দেখানোয় ১০২(৪) ধারার অধীনে ওয়েইসিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনিও রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে একই দাবি তুলেছেন।
- কী রয়েছে সংবিধানে
প্রসঙ্গত ১০২(৪) ধারায় রয়েছে, যদি সেই সাংসদ সংসদে উল্লিখিত অফিস ব্যতীত অন্য কোনও সরকার বা সরকারের অধীন লাভজনক পদে থাকেন তাহলে লোকসভা বা রাজ্যসভায় কোনও ব্যক্তির সাংসদপদ বাতিল হতে পারে। এক্ষেত্রে নেতার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তা মেনে নেওয়া হয়। এমন কী কোনও ব্যক্তির ঋণ রয়েছে, তিনি তা পরিশোধ করতে পারছেন না, তাহলেও তা মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু ১০২-এর চার ধারায় রয়েছে কেউ যদি দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলেও তার সদস্যপদ খোয়াতে হতে পারে। এক্ষেত্রে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি নিজের দেশের নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় নাম নেন ফিলিস্তিনের।
- রয়েছে সংসদের নীতি-কমিটি
এব্যাপারে উল্লেখযোগ্য সংসদের উভয় কক্ষে একটি নীতিশাস্ত্র কমিটি রয়েছে। তারা নেতাদের নৈতিক আচরণের দিকে নজর রাখে। সেই কমিটি যদি বলে নির্দিষ্ট কোনও সদস্য মর্যাদা ভঙ্গ করেছেন, তাহলে সদস্যপদ হারাতে হতে পারে। এই ধরনের কমিটির সুপারিরেশই গত ডিসেম্বরে ১৭ তম লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সদস্যপদ বাতিল হয়ে গিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications