সুপ্রিম কোর্টে কেজরিওয়ালকে নিয়ে শুনানি! দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জামিনের শর্ত ঠিক করে দিল সর্বোচ্চ আদালত
তিহারে বন্দি রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সুপ্রিম কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে এদিন শুনানি হয়। সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার বলেছে, যদি অরবিন্দ কেজরিওয়াল অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান, তাহলে তাঁকে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনুমতি দেওয়া হবে না। কারণ তাতে ক্যাসকেডিং এফেক্ট পড়তে পারে। এদিন সর্বোচ্চ আদালত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জামিনের বিষয়ে আদেস সংরক্ষিত রেখেছে।
বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির সময় বলেন, আদালত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে পরশু তারিখ দেবে। তা না হলে পরের সপ্তাহের কোনও এক সময় রাখা হবে। ফলে আগামী সপ্তাহ খুব কঠিন হতে চলেছে। প্রসঙ্গত গত ২১ মার্চ ইডি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির মদ মামলায় গ্রেফতার করে। তারপর থেকে তিনি কখনও ইডি এবং কখনও বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

- কেজরিওয়ালের হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি
এদিন দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালত মদ মামলার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি অর্থ পাচারের মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের সময় ২০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
- মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় দুই বিচারপতির বেঞ্চ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হয়ে শুনানিতে হাজির হওয়া আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে প্রশ্ন করেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি অন্তর্বর্তী জামিন পান, তাহলে কি অফিসে যাবেন কিংবা ফাইলে স্বাক্ষর করবেন কিংবা অন্যদের নির্দেশ দেবেন?
জবাবে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, তাঁকে যেন আবগারি মামলার অভিযুক্ত হিসেবে না দেখা হয়, কারণ তিনি একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় বেঞ্চের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, যদি আদালত আপ প্রধানকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কারণ তাতে ক্যাসকেডিং এফেক্ট পড়তে পারে।
আদালত আরও বলে, তারা সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান, এটাই তাঁর ইচ্ছা। আদালত শুধুমাত্র নির্বাচনের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের কথা ভেবেছে। না হলে এই আবেদন বিবেচনা করা হত না। শীর্ষ আদালত ইডিকেও জানিয়ে দেয় তারা কেজরিওয়ালের জামিনের যুক্তি শুনবে।
- জামিনের বিরোধিতায় ইডি
সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এটা একটা অসাধারণ পরিস্থিতি। এমন নয় যে তিনি (কেজরিওয়াল) অভ্যাসগত অপরাধী। নির্বাচন পাঁচ বছরে একবার হয়। তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা, তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। আদালত আরও বলে, দেশের প্রাক্তন মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ জেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।
যদিও ইডির তরফে আদালতের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়, এটা একটা ভুল নজির তৈরি করবে। তারা বলে সাধারণ নাগরিকের তুলনায় একজন রাজনীতিকের কোনও বিশেষ অধিকার নেই। মামলার মুখোমুখি হওয়া সব সাংসদ এবং বিধায়কদের কি জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন করে তারা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে ইডির প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications