কাদামাটির নীচে সেনার গাড়ি, নিখোঁজ ২২ জওয়ানের খোঁজে তল্লাশি বাহিনীর
সেনাবাহিনীর একতলা বাড়ি সমান উঁচু ট্রাক। তারও অনেক তলা উপরে মাটি বোঝাই হয়ে গিয়েছে। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা। তার গতি সামান্য কমেছে। অকুস্থলে পৌঁছাতে পারল সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে ক্যাম্প সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল, সেখানে ফের পৌঁছাল সেনা। উদ্ধার করা হল বাহিনীর গাড়ি।
বারদাং সেনাছাউনির আর কোনও অস্তিত্বই নেই। লোনাক হ্রদের জল চুংথাম জলাধারে পড়ে। বিশাল জলরাশি তিস্তা দিয়ে নেমে আসে৷ বুধবার গভীর রাতে এই প্রবল জলের স্রোত নামতে থাকে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কোনও সময়ই পাননি। ঘুমের মধ্যেই ভেসে গিয়েছেন সেনা জওয়ানরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। পাওয়া গেল তাদের গাড়িগুলি।

বারদাং সেনাছাউনিতে ২৩ জন সেনা জওয়ান ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই জলের তোড়ে ভেসে যান। তাদের মধ্যে একজনকে বুধবার জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি কোথায় ছিলেন? কী হয়েছিল ওই অভিশপ্ত রাতে? কিছুই জানা যায়নি তার থেকে। ওই জওয়ানের চিকিৎসা চলছে। তিনি কথা বলার পরিস্থিতিতেও নেই বলে খবর।
বাকি ২২ জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে৷ তারা কোথায় আছেন? কোন পরিস্থিতিতে আছেন? কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। বারদাং সেনাছাউনি এলাকায় বাহিনীর জওয়ানরা গিয়েছেন। যে ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তা অতি ভয়াবহ। চারদিকে কাদামাটির তাল। সেই মাটির নীচেই দেখতে পাওয়া গিয়েছে সেনাবাহিনীর গাড়ি। সেনার ৪১ টি গাড়ি ছিল। কয়েকটি গাড়িকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলি সম্পূর্ণ জল, কাদামাটি মাখা অবস্থায় রয়েছে।
কয়েকটি গাড়িকে কাদামাটির নীচে আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সেই গাড়িগুলিকেও বার করার কাজ চলছে। এই বিশাল পরিমাণ মাটি উপর থেকে জলের সঙ্গে নেমেছে। রাস্তা, থাকার জায়গা বলে আলাদা কিছুই নেই। কয়েক তলা বাড়ি সমান কাদামাটির স্তর এসে জমা হয়েছে ওইসব এলাকায়।

ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি বাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সিকিমের চুংথাং, লাচুং, লাচেন এলাকায় সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সেইসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। ওইসব এলাকায় সেনাবাহিনীর তরফ থেকে মেডিক্যাল ক্যাম্পও খোলা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও কিছুটা উন্নত না হলে বাহিনী সম্পূর্ণ কাজে নামতে পারবে না। তবে উপদ্রুত এলাকাগুলিতে জওয়ানরা পৌঁছাতে শুরু করেছেন। অন্যান্য এলাকার বাহিনীর ক্যাম্পগুলিতেও যোগাযোগ করা হয়েছে। মোবাইল সংযোগ সচল করার কাজ চলছে। সিকিম ও উত্তরবঙ্গে অন্যান্য সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সুস্থ আছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করানো হচ্ছে।
নিখোঁজ ২২ জন জওয়ান কোথায়? তিস্তার জলে তারা কতটা ভেসে গিয়েছেন? তারা কি নিজেদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন? এইসব প্রশ্ন ঘুরছে। তিস্তার ভাটির এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications