ঝাড়খণ্ডেও রিসর্টের রাজনীতি! সন্ধের মধ্যে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না পেলে 'প্ল্যান বি' রেডি রাখছে JMM-Cong
বুধবার ইডির হেফাজতে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন। ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা পত্র জমা দেন। তার আগে অবশ্য ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলের প্রবীণ নেতা চম্পাই সোরেনকে দলের নেতা নির্বাচিত করে। চম্পাই সোরেনও ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে সরকার গঠনের দাবি করেছেন। হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার নিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন।
জেএমএমের বিধায়করা রাজ্যপালের কাছে শীঘ্রই সরকার গঠনের দাবি করেছেন। কিন্তু বুধবার এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জেএমএম রাজ্যপালের কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পায়নি। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড বিজেপিও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত। দলের রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ী রাঁচিতে গিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে রাজ্যে রিসর্টের রাজনীতি শুরু হতে চলেছে। বিজেপির সক্রিয়তা দেখে জেএমএম ছাড়াও কংগ্রেস এবং অন্যদলগুলি তাদের বিধায়কদের নিয়ে সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্যপাল যদি ১ ফেব্রুয়ারি জেএমএমকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ না জানান, তাহলে জোটের বিধায়কদের ঝাড়খণ্ডের বাইরে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।
সূত্রের খবর, বিধায়কদের তেলেঙ্গানায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে। বিজেপি যাতে বিধায়কদের মধ্যে কোনও বিভাজন তৈরি করতে না পারে, তার জন্য ইন্ডিয়া ব্লকের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কংগ্রেস-জেএমএম-সহ বিরোদী বিধায়কদের একসঙ্গে রাখতে তেলেঙ্গানাকেই নিরাপদ বলে মনে করছে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ৮১ জন বিধায়ক সমন্বিত হলেও, বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখানে শাসক জোট জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি-সিপিআইএমএলের ৪৮ জন সাংসদ রয়েছে। সেখানে রাজ্যপালের কাছে জেএমএম বিধায়ক চম্পাই সোরেন যে চিঠি জমা দিয়েছেন, সেখানে ৪৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিজেপি জোটের বিধায়ক সংখ্যা ৩২। একদিকে হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি, অন্যদিকে বিজেপির সক্রিয়াতায় কিছুটা হলেও চিন্তিত ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা।
ঝাড়খণ্ড এবারেই যে রিসর্টের রাজনীতি দেখছে তা নয়, ২০২২-এ যখন হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে অফিস অফ প্রফিটের মামলা এসেছিল, তখনও সেখানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ও জেএমএম-কংগ্রেস জোট তাদের বিধায়কদের প্রতিবেশী কংগ্রেস শাসিত ছত্তিশগড়ে স্থানান্তরিত করেছিল। তবে এবার ছত্তিশগড় বিজেপির হাতে যাওয়ায় সেই সুবিধা নেই। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে রাজ্যপাল বিধায়ক দলের নেতা চম্পাই সোরেনকে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজভবনে দেখা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications