সংবিধান সংশোধন করে ফের রাজ্যগুলির হাতে ক্ষমতা, লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও পাশ ওবিসি বিল
রাজ্যসভাতেও (rajyasabha) পাশ হয়ে গেল ওবিসি বিল (obc bill)। এই বিলটি সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম সংবিধান সংশোধনী বিল (constitutional amendment bill) হিসেবেও পরিচিত। এই বিলে পাশ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ন
রাজ্যসভাতেও (rajyasabha) পাশ হয়ে গেল ওবিসি বিল (obc bill)। এই বিলটি সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম সংবিধান সংশোধনী বিল (constitutional amendment bill) হিসেবেও পরিচিত। এই বিলে পাশ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি নিজেদের ওবিসি তালিকা তৈরি করতে পারবে। যা চাকরি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংরক্ষণের জন্য কাজে আসবে। এই বিলটি প্রথমে পাশ করানো হয় লোকসভায় (loksabha)।

এদিন বিলটি রাজ্যসভায় রেখে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার বলেন, এই বিল রাজ্যগুলির হাতে তাদের নিজেদের ওবিসি তালিকা তৈরি করার ক্ষমতা ফেরাবে। যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। এবছরের মে-মাসে সুপ্রিম কোর্ট এব্যাপারে রায় দিয়ে সব দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে তুলে দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিল পাশের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি বিভিন্নদল এবং তাদের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেননা তাঁরা সর্বসম্মতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিলটিকে পাশ করিয়ে দেশে ওবিসিদের সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণের সুবিধা করে দিলেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেছেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে সারা দেশে ৬৭১ টি সম্প্রদায়কে সাহায্য করবে। এই ৬৭১ টি সম্প্রদায় সারা দেশের ওবিসিদের ওক পঞ্চমাংশ। তিনি আরও বলেনয় এই সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করানো জরুরি হয়ে পড়েছিল কারণ, তা রাজ্যগুলিকে তাদের নিজেদের ওবিসি তালিকা তৈরি করতে সাহায্য করবে। একটি মামলায় রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এই সংরক্ষণ বাতিল করে দেয়।
মঙ্গলবার লোকসভায় সর্বসম্মতভাবে ওবিসি বিল পাশ হয়ে যায়। বিলটিকে সমর্থন করতে গিয়ে বিরোধীরা দাবি করেন সংরক্ষণের ৫০ শতাংশের সীমা তুলে দেওয়া হোক। সদস্যদের অনেকেই জাতি ভিত্তিক জনগণনারও দাবি তোলেন। বিলটির সমর্থমে ৩৮৫ জন ভোট দেন। কেউ এইবিলের বিরোধিতায় ভোট দেননি।
সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে সব বিরোধীদলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খারগে। তারপরেই তিনি বলেছিলেন বিল পাশে সরকারের পাশে থাকবে বিরোধীরা। তিনি আরও বলেছিলেন অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিত করতে, রাজ্যের হাতে ক্ষমতা ফেরাতে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে কেন্দ্রকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি সবকটি দলের কাছেই স্পর্শকাতর হওয়ায় পেগাসাস আর কৃষি বিল নিয়ে সংসদে বিক্ষোভের মধ্যেই এই বিল পাশ করাতে উদ্যোগী হয় বিরোধীরা।
তবে এব্যাপারে কেন্দ্রের সূক্ষ্ম চালও কাজ করেছে। সংসদে বিক্ষোভের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনী বিলটি আনার কথা জানিয়ে সরকার পক্ষ বিরোধীদের কার্যত চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। কেননা বর্তমান পরিস্থিতিতে ওবিসি-স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া কোনও বিরোধীদলের পক্ষেই সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিজেপিরও নিজের দায় ছিল। উত্তর প্রদেশে বিধানসভা ভোটের আগে এই বিল পাশ করানোও বিজেপির কাছে জরুরি হয়ে পড়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications