১০ বছর পরে নির্বাচনে, আগের থেকে বড় তফাত এবারের নির্বাচনে! কী কী পরিবর্তন জম্মু-কাশ্মীরে
জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচনের দিন ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের। সুপ্রিম কোীর্ট ২০২৪-এর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট করতে নির্দেশ দিয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকে এটাই হবে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। প্রসঙ্গত, গত ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরে শেষবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালে। তারপর থেকে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। আগের থেকে আসন সংখ্যাও বাড়ছে। আগে নির্বাচিত সরকারের হাতে বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকত, এখন বেশিরভাগ ক্ষমতা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে।

- জম্মু ও কাশ্মীরে কী কী পরিবর্তন?
২০১৯-এর ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীর অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সময়ের পরে জম্মু ও কাশ্মীর দুইভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এখন সেখানে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা থাকলেও, লাদাখে তা নেই।
বিধানসভা নির্বাচনের পরেও জম্মু ও কাশ্মীর আগের মতো থাকবে না। আগে নির্বাচিত সরকারের হাতেই অধিকাংশ ক্ষমতা ছিল। এবার তা থাকবে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে।
লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে থাকবে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা ও ভূমি দফতরের ভার। অন্যদিকে বাকি সব বিষয়ে নির্বাচিত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
- আসন সংখ্যাতেও পরিবর্তন
এবার জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভার আসন সংখ্যাতেও পরিবর্তন হতে চলেছে। আগে জম্মু ও কাশ্মীরের ১১১ টি আসন ছিল। এর মধ্যে জম্মুতে ৩৭, কাশ্মীরে ৪৬ ও লাদাখে ৪ টি আসন। এছাড়া পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য ২৪ টি আসন রাখা ছিল।
এবারের নির্বাচনে জম্মুতে থাকতে চলেছে ৪৩ টি আসন, কাশ্মীরে ৪৭ টি আসন। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য ২৪ টি আসন সংরক্ষিত থাকছে। তালিকা থেকে লাদাখ বাদ। এবার মোট ১১৪ টি আসন ধরা হয়েছে। যার মধ্যে নির্বাচন হবে ৯০ টি আসনে।
এর মধ্যে ১৬ টি আসন থাকছে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। সাতটি আসন তফশিলি জাতি ও নয়টি আসন তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে।
- কোথায় কত আসন বৃদ্ধি
জম্মুর সাম্বা, কাঠুয়া, রাজৌরি, কিস্তওয়ার, ডোডা ও উধমপুরে একটি করে আসন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কাশ্মীরের কুপওয়ারায় একটি আসন বৃদ্ধি পেয়েছে।
- কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য আসন সংরক্ষণ
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত থাকছে। তাঁদেরকে কাশ্মীরি অভিবাসী বলা হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিধানসভায় তিনজন সদস্যকে মনোনীত করতে পারবেন। এঁদের দুইজন হবেন কাশ্মীরি অভিবাসী এবং একজন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি। যে দুইজন কাশ্মীরি অভিবাসীকে মনোনীত করা হবে, তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা।
কাশ্মীরি অভিবাসীদের জন্য শর্ত রয়েছে। যিনি ১৯৮৯-এর ১ নভেম্বরের পরে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত হবে হবে এবং তাঁর নাম ত্রাণ কমিশনে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। একই সময়ে ১৯৪৭-৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৭১-এ পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা যে কোনও ব্যক্তিকে বাস্তুচ্যুত হিসেবে গণ্য করা হবে।
- অনেকটা পুদুচেরির সঙ্গে তুলনীয়
সব মিলিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ৯৩ টি সক্রিয় আসন থাকতে চলেছে। এর মধ্যে ৯০ টি আসনে নির্বাচনব হবে। ৩ জনকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচিত করবে। যেমন পুদুচেরিতে ৩৩ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় ৩০ টিতে নির্বাচন হয়। বাকি তিন আসনে কেন্দ্রীয় সরকার তিন জনকে মনোনীত করে।
- বিজেপির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা
জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনে জম্মুতে ৪৩ টি ও কাশ্মীরে ৪৭ টি আসন থাকছে। সাধারণভাবে জম্মু হিন্দু অধ্যুষিত এবং কাশ্মীর মুসলিম অধ্যুষিত। সে সেই নিরিখে জম্মুতে ছটি আসন বৃদ্ধিতে বিজেপির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা।
- শেষ(২০১৪) নির্বাচনের ফলাফল
২০১৪ সালে শেষবার জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন হয়েছিল। সেই সময়কার ৮৭ টি আসনের মধ্যে পিডিপি পেয়েছিল ২৮ টি আসন, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস পেয়েছিল যথাক্রমে ১৫ ও ১২ টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছিল ২৫ টি আসন। বিজেপি ও পিডিপি সরকারে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন মুফতি মহঃ সইদ। তিনি ২০১৬-তে মারা যাওয়ার পরে চারমাস রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ছিল। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মেববুবা মুফতি। কিন্তু ২০১৮-র ১৯ জুন বিজেপি ও পিডিপির জোট ভেঙে যায়।












Click it and Unblock the Notifications