বিদেশি মডেল হিসেবে পরিচয় দিয়ে ৭০০-রও বেশি মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করে গ্রেফতার ২৩ বছরের যুবক
দিনের বেলা, তিনি উত্তর প্রদেশের নয়ডায় একটি বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগকারী হিসাবে কাজ করেন। রাতে তিনি ভারতে আত্মা-সন্ধানী ভ্রমণে মার্কিন মডেল হয়ে যান। তার দিনের কাজ তাকে নিরাপত্তা প্রদান করে এবং তার রাতের কর্মকাণ্ড কারসাজি এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ রোজগার করতে সাহায্য করে। ডেটিং প্ল্যাটফর্মে মডেল হিসাবে নিজেকে জাহির করে ৭০০ জনেরও বেশি মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করেছে তুষার সিং বিষ্ট নামে এক যুবক। আর এবার পুলিশের জালে গ্রেফতার হল পূর্ব দিল্লির শকরপুর এলাকা থেকে ২৩ বছর বয়সী তুষার সিং।
দিল্লির বাসিন্দা, তুষার বিবিএ করেছে। গত তিন বছর ধরে সে নয়ডার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে টেকনিক্যাল রিক্রুটার হিসেবে নিযুক্ত ছিল। তার বাবা একজন ড্রাইভার হিসাবে কাজ করেন, তার মা একজন গৃহিণী এবং তার বোন গুরুগ্রামে চাকরি করেন। তুষার, একটি স্থিতিশীল চাকরি ধরে রেখেও, সাইবার ক্রাইমের জগতে নেমে আসে। মূলত মহিলাদের প্রতি লোভ এবং লালসার জন্যেই সে এই পথ বেছে নেয়।

ছবি সৌজন্য- pexels
একটি অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা একটি ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে, তুষার জনপ্রিয় ডেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন বাম্বল এবং স্ন্যাপচ্যাটে জাল প্রোফাইল তৈরি করে। সত্যিকারের ব্রাজিলিয়ান মডেল থেকে চুরি করা ফটো সহ একটি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ভারতে সফররত মার্কিন-ভিত্তিক ফ্রিল্যান্স মডেল হিসাবে পোজ দিত সে। তার লক্ষ্য ছিল প্রাথমিকভাবে ১৮-৩০ বছর বয়সী মহিলারা। তাঁদের সাথেই সে এই প্ল্যাটফর্মে বন্ধুত্ব স্থাপন করত।
একবার তাদের বিশ্বাস অর্জন করলে, তুষার বন্ধুত্বের আড়ালে তাদের ফোন নম্বর এবং অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিওর জন্য অনুরোধ করত। সেরকম ছবি বা ভিডিও চলে এলে, সেই গুলি দিয়েই ব্ল্যাকমেল করত নির্যাতিতাদের। প্রাথমিকভাবে, এই ক্রিয়াকলাপগুলি ব্যক্তিগত চিত্তবিনোদনের জন্য পরিচালিত হলেও, সময়ের সাথে সাথে, নিজের নেশা এবং পেশা দুটোই করে নেয় অভিযুক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, তুষার এই ভিজ্যুয়ালগুলি ব্যবহার করে মহিলাদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা চাইত। যদি কোনও ভিকটিম তার অর্থের দাবি প্রত্যাখ্যান করত, তাহলে তাঁকে অনলাইনে আপলোড কিংবা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিত সে।
পুলিশের অনুসন্ধান অনুসারে, তুষার বাম্বল-অ্যাপে ৫০০ টিরও বেশি মহিলার সঙ্গে এবং স্ন্যাপচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপে ২০০ টিরও বেশি মহিলার সঙ্গে জড়িত ছিল। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে যখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী গত ১৩ ডিসেম্বর প্রতারিত হয়ে সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ২০২৪-এর জানুয়ারিতেই তুষারের সাথে আলাপ হয় তাঁর। সে বাম্বলে তুষারের সাথে যোগাযোগ করে। অভিযুক্ত নিজেকে ইউএস-ভিত্তিক মডেল হিসাবে পরিচয় দিয়েছিল। আর তারপরই সম্পর্ক গভীর হয়। তাঁকেও তাঁর ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে অভিযুক্ত। শেষমেশ দিল্লি সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
পশ্চিম দিল্লির সাইবার পুলিশ এসিপি অরবিন্দ যাদবের তত্ত্বাবধানে একটি দল গঠন করা হয়। তারপর তল্লাশিতে তুষারের পরিচয় সামনে আসে। তাঁর কাছ থেকে অপরাধমূলক তথ্য সম্বলিত একটি মোবাইল ফোন, তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত একটি ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৩টি ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ৬০ টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রেকর্ড পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সমগ্র ঘটনার তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications