সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে এবার সরাসরি গ্রেফতার হয়ে গেলেন ১৬০ জন কৃষক
ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সহ বেশ কয়েকটি দাবিতে দিল্লিতে সোমবার কৃষকদের পদযাত্রা থামিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। সংসদ পর্যন্ত পৌঁছতে দেওয়া হয়নি তাঁদেরকে। কৃষকদের দাবি পৌঁছে দেওয়া হবে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে, এমনই আশ্বাস দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তাই পুলিশের আশ্বাস পেয়ে নয়ডার দলিত প্রেরণা স্থলেই অবস্থানে বসেছিলেন কৃষক সংগঠনগুলি।
অথচ সেই প্রতিশ্রুতির ২৪ ঘন্টা পেরনোর আগেই পুলিশ মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের নয়ডায় ১৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী কৃষককে গ্রেপ্তার করে নিল। গ্রেফতার করা হয় ভারতীয় কিষাণ পরিষদের সুখবীর খলিফাকেও। কৃষকরা নয়ডায় যে 'দলিত প্রেরণা স্থল'-এ বসেছিল সেখানেই পুলিশ গিয়ে তাঁদেরকে বলপূর্বক গ্রেফতার করে।

এর আগে সোমবার, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা যৌথ কিষাণ মোর্চার ডাকে নয়ডায় পৌঁছে ছিলেন। তারা দাবি রেখেছিলেন, সাত দিনের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে জাতীয় রাজধানীতে পুনরায় পদযাত্রা শুরু করবেন তারা। অথচ এদিন সেই সব ঘটার আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে নিল কৃষকদের।
যা জানা যাচ্ছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এর ১৭০ ধারার অধীনে পুলিশ এদিন দুপুরে ১৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (আইন শৃঙ্খলা) শিব হরি মীনা এদিন বলেন, এই ধারাটি পুলিশকে কমিশন রোধ করতে গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেয়। এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ।
অন্যদিকে, পুলিশের এই গ্রেফতারির পর ফের একবার ফুঁসছে কৃষক সংগঠনগুলি। নরেশ টিকাইতের নেতৃত্বে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন নয়ডায় কৃষকদের গ্রেফতারির নিন্দা জানিয়ে মুজাফফরনগরে একটি পঞ্চায়েত ডেকেছে। সুখবীর খলিফা গ্রেফতারির পরও বলেছেন, তাদের "ন্যায্য দাবি" নিয়ে লড়াই তারা চালিয়ে যাবেন।
পুলিশের মতে, গ্রেফতার হওয়া কৃষকদের মধ্যে মহিলা খলিফা এবং ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (পশ্চিম উত্তর প্রদেশ) রাজ্য সভাপতি পবন খাতানার মতো বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট কৃষক নেতাও রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের নয়ডার লুকসার জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। বুধবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে।
- কিন্তু কেন হঠাৎ করে গ্রেফতার করা হল কৃষকদের?
যা জানা যাচ্ছে, কৃষকরা সোমবার মহামায়া ফ্লাইওভারের কাছে জড়ো হয়েছিল সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা জমির যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে। সোমবার দিল্লির দিকে রওনা হয়েছিল তারা। কিন্তু দলিত প্রেরণা স্থলের কাছেই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ফলে সেখানেই তারা ধর্নায় বসে যায়।
পুলিশের অভিযোগ, ব্যাপক যানজটের কারণে দিল্লি-নয়ডা সীমান্ত অতিক্রমকারী যাত্রীদের অসুবিধার সৃষ্টি করছিল এই ধর্না মঞ্চ। কৃষকদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিল। তাই তারা গতকাল থেকে আজ সারাদিন পর্যন্ত সেখানেই ঠাঁই বসেছিল। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল রাস্তায়। তাই এদিন পুলিশ দুপুরে তাঁদের বলপূর্বক সেখান থেকে উঠিয়ে দেয়। আর সেই সময়ই ধস্তাধস্তিতে পুলিশ ১৬০ জন কৃষককে গ্রেফতার করে।












Click it and Unblock the Notifications