পোড়ো নীলকুঠিই এখন পর্যটনের আকর্ষণ, মিলবে ভূতের সঙ্গ
গ্রামের কাঁচা পথটা ধরে একটু এগোলেই নীল কুঠী। সামনে ইছামতীর ঘাটে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোটো দুটি নৌকা। পড়ন্ত বিকেলে নৌকা করে ইছামতীতে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে, পারমাদন জঙ্গলের চারিপাশে একবার ঘুরে দেখার অনুভুতি দারুণ।

সেই নীলকুঠীতে নাকি তেঁনাদের বাস । ভাগ্য খারাপ হলে নাকি তাঁদের দেখা মেলে। এখনও গ্রামে কারোর শরীরে যদি ভূত ধরলে ছাড়িয়ে দেওয়ারও লোক আছে । আর এসব অশরীরীদের গল্প শুনতে নাকি বড় বড় শহর থেকে বহু মানুষ আসেন মঙ্গলগঞ্জের ভালো ভূতের দেশে। সত্যি নাম শুনেই বড় ইচ্ছে হল একবার ঘুরে দেখার এই ভালো ভুতের দেশে।
সপ্তাহান্তে, তাই থাকার জায়গা পুরো ভর্তি । এরা নিজেদের ব্যাকপ্যাকার্স বলেন । যারা কিনা একটু অন্য রকমের পর্যটক । ব্যাগ নিয়ে নতুন কিছু দেখতে জানতে বেরিয়ে পরেন । তা ব্যাকপ্যাকাররা কি ভূতে বিশ্বাস করেন, উত্তর মিলবে না,, ভূত আবার আছে নাকি ! কিন্তু সময়ের জন্য তাদের অস্তিত্ব বাস্তব ভেবে জঙ্গলের অন্ধকারে তাঁদের গল্প শুনতে মন্দ লাগবে না।
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়া একদিন বেড়াতে এসে প্রেমে পড়ে যায় মঙ্গলগঞ্জের । আগেও অনেকে এসেছেন, প্রেমেও হয়তো পড়েছেন কিন্তু এদের স্বপ্ন ছিল যে গ্রামে নদী আছে, জঙ্গল আছে, বর্ষায় লক্ষাধিক জোনাকি মাইগ্রেট করে, সে গ্রামে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে আসবে । শুরু হল গ্রামের মানুষদের প্রশিক্ষণ। ধীরে ধীরে শুরু হল শহুরে পর্যটকদের আনাগোনা ।
একেবারে গ্রাম্য পরিবেশে গ্রামের মানুষদের আতিথিয়তায় কিছুটা সময় কাটানোই ছিল উদ্দেশ্য। আজ বছরে প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষ ঘুরতে যান Izifiso-র ভালো ভূতের দেশে । একসময় যে গ্রামের মানুষকে বাজার করতে ছুটে যেতে হত মাইলের পর মাইল । আজ বাড়ির পাশেই হয়েছে বাজার। যেখানে প্যাকেট বন্দী সব শহুরে খাবার, তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা ঘাট, উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ আরও গ্রামবাসী তৈরি হচ্ছেন 'Izifiso'-র মতো করে 'startup' শুরু করতে। পর্যটণ যে খুব সহজে গ্রামের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে মঙ্গলগঞ্জ তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। একবার ঘুরে দেখে আসতে পারেন এখানে। দিন দুয়েকে মন ভরিয়ে দেবে। মৌসুনী, দোলাডাঙা, গুর্দুম এসবই নাকি আজ এমনই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাপূর্ণ পর্যটক কেন্দ্র।












Click it and Unblock the Notifications