Euro 2020: খেতাব দখলে রাখার লক্ষ্যে পর্তুগাল, রেকর্ডের মালা পরার অপেক্ষায় রোনাল্ডো
খেতাব দখলে রাখার লড়াইতে এবার ইউরো অভিযানে পর্তুগাল। যদিও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল রয়েছে গ্রুপ অব ডেথে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ রয়েছে নেশনস কাপে চ্যাম্পিয়নদের। একঝাঁক রেকর্ডও অপেক্ষা করছে পর্তুগাল অধিনায়কের জন্য।

অনন্য রেকর্ড অপেক্ষায়
লোথার ম্যাথাউজ, পিটার স্মাইকেল-সহ আজ অবধি বিশ্বের ১৭ জন ফুটবলার চারবার ইউরো কাপ খেলেছেন। তবে রোনাল্ডো ছাড়া কেউই চারটি ইউরোতেই গোল করেননি। ২০০৪ সালের ইউরোতে রোনাল্ডো দুটি গোল করেছিলেন। ২০০৮ সালে একটি। ২০১২ সালে তিনটি এবং ২০১৬ সালে তিনটি গোল করেছেন।২০১৬ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো চারটি ইউরো খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেন। এবার কেরিয়ারের পঞ্চম ইউরো কাপ খেলতে নামলেই রোনাল্ডো সবচেয়ে বেশি ইউরো খেলার রেকর্ড শুধু নিজের দখলেই নিয়ে আসবেন। ২০০৪ সালে প্রথমবার ইউরো খেলতে নেমেই ১২ জুন গ্রিসের বিরুদ্ধে প্রথম গোল করেছিলেন। এরপর পর্তুগালের হয়ে আরও ২১টি ম্যাচে তিনি ৮টি গোল করেছেন। ফলে ৯টি গোল করে সিআর সেভেন স্পর্শ করেছিলেন ইউরোয় সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডধারী ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনিকে, যে রেকর্ড প্লাতিনি গড়েছিলেন ১৯৮৪ সালে। সাতটি গোল রয়েছে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা অ্যালান শিয়েরারের। এবারের ইউরোতে আর একটি গোল করে ইউরোতে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হয়ে যাবেন রোনাল্ডো। দেশের হয়ে তিনি গোল করেছেন মোট ১০৩টি। ফলে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার আলি দায়ি (১০৯)-র রেকর্ড ভাঙতে রোনাল্ডোর দরকার আর সাতটি গোল।

সর্বাধিক ম্যাচ
যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ-সহ ধরলে ইউরোয় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৫৮) খেলেছেন ইতালির জিয়ানলুউজি বুফন। সব ঠিকঠাক চললে সেই রেকর্ড রোনাল্ডো ভেঙে ফেলবেন গ্রুপ পর্যায়ের তৃতীয় ম্যাচেই। তিনি এমন ৫৬টি ম্যাচ খেলেছেন। ইউরোতে হ্যাটট্রিক রয়েছে সাত ফুটবলারের। তবে রোনাল্ডোর একটিও হ্যাটট্রিক নেই। পর্তুগালের হয়ে রোনাল্ডোর অবশ্য ৯টি হ্যাটট্রিক রয়েছে। ম্যাচে চার গোল করেছেন দুইবার। এবার ইউরোতে হ্যাটট্রিক করেও তাই রেকর্ড-বুকে ঢুকে পড়তে চাইবেন সিআর সেভেন। ৩০ বছরের বেশি বয়সের ফুটবলার ইউরো ফাইনালে গোল করেছেন এমন নজির রয়েছে একটি। পশ্চিম জার্মানির হয়ে বারেন্ড হলজেনবেইন গোল করেছিলেন ১৯৭৬ সালের ইউরোয়। পর্তুগাল ফাইনালে উঠলে ১১ জুলাই রোনাল্ডোর বয়স হবে ৩৬ বছর ১৫৬ দিন। ফলে জার্মানির প্রাক্তন ফরওয়ার্ডের কৃতিত্বেও ভাগ বসানোর হাতছানি রয়েছে রোনাল্ডোর সামনে। অধিনায়ক হিসেবে দু-বার ইউরো জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে ইকার ক্যাসিয়াসের। ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো জিতেছিল স্পেন তাঁর অধিনায়কত্বেই। এ বছর অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে যদি রোনাল্ডো যদি ইউরো ট্রফি জিতে নেন তাহলে ক্যাসিয়াসের সেই কৃতিত্ব স্পর্শ করতে পারবেন তিনি।

রেকর্ড উন্নত করার লক্ষ্যে
ইউরোয় সবচেয়ে বেশি ২১টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে রোনাল্ডোরই দখলে। ২০০৮ সালে পরের পর্বে উঠে যাওয়ায় সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলেননি রোনাল্ডো। প্রাক্তন জার্মান মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান সোয়েইনস্টাইগার ১৮টি ইউরো ম্যাচ খেলেছেন। ফলে নিজের রেকর্ডকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নামবেন পর্তুগালের অধিনায়ক। ইউরোর যোগ্যতা অর্জন ও মূলপর্ব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডটিও রোনাল্ডোর দখলেই। তাঁর ৪০টি গোলের রেকর্ডের অনেক পিছনে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (২৫) ও রবি কেইন (২৩)।

পর্তুগালের খেলা
১৫ জুন ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় হাঙ্গেরি ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এরপর ১৯ জুন একই সময়ে পর্তুগাল-জার্মানি ম্যাচ। ২৩ জুন তথা ভারতীয় সময়ানুসারে ওইদিন মধ্যরাতের পর রাত সাড়ে ১২টায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ম্যাচ। এই গ্রুপকে এবারের ইউরোর গ্রুপ অব ডেথ বলা হচ্ছে।

সম্ভাব্য একাদশ
ইউরো অভিযান শুরুর আগে আগামীকাল মধ্যরাতে পর অর্থাৎ ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। তাতে প্রথম একাদশের ইঙ্গিত মিলবে। দেখতে হবে দল এখনও কতটা রোনাল্ডো-নির্ভর। ইউরোর প্রথম ম্যাচে প্রথম একাদশে যাঁরা থাকতে পারেন তাঁরা হলেন গোলকিপার রুই প্যাত্রিসিও। ডিফেন্সে জোয়াও ক্যান্সলো, পেপে, রুবেন দিয়াস ও নুনো মেন্দেস। মাঝমাঠে দানিলো, জোয়াও মৌতিনহো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে বার্নার্দো সিলভা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও জোয়াও ফেলিক্স শুরু করতে পারেন। ১৯ বছরের লেফট ব্যাক নুনো মেন্দেজ এবার পর্তুগালের হয়ে নজরকাড়া ফুটবল খেলবেন বলে মনে করছে ফুটবল মহল।












Click it and Unblock the Notifications