• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

    শুধু মমতা নয়, বাংলায় ব্যর্থতার অতলে ডুবেছে দলব্যবস্থাও

    • |
    পুরুক
    এখন আকছার শোনা যাচ্ছে একটা কথা। পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী আশা হল বিজেপি-ই। কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিবিদ আর হতাশাগ্রস্ত ভোটাররা ধরে নিয়েছেন যে, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।

    গোটা ব্যাপারটা পশ্চিমবঙ্গে একটু আশ্চর্যজনক বৈকি! কারণ এই রাজ্যে ডানপন্থী রাজনীতি নিয়ে একটা স্বাভাবিক বিদ্বেষ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল: স্বাধীনতার পর থেকে তিন-তিনটি দল পশ্চিমবঙ্গে ব্যর্থ হয়েছে। এ বার চতুর্থ দলটির ক্ষেত্রেও কি তাই হবে?

    একদা দাপুটে দলগুলি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে

    ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৭, দীর্ঘ ৩০ বছর রাজ্যশাসন করেছে কংগ্রেস। ব্যতিক্রম শুধু ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২, এই সময়টুকু। পরের ৩৪ বছর সিপিএম-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। আর এখন তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাত দৃষ্টিতে দেখতে গেলে, স্বাধীনতার পর ৬৭ বছর পশ্চিমবঙ্গ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাজনীতিতে অভ্যস্ত।

    পরিবর্তন সত্ত্বেও কেন আম বাঙালি অখুশি রইল?

    বামেদের রাজত্ব ঘুচিয়ে বহুকাঙ্ক্ষিত 'পরিবর্তন' এসেছিল বাংলায়। তবুও বাঙালির প্রত্যাশা পূরণ হল না। বস্তুত, ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট যখন ক্ষমতায় আসে, তখন শুধু রাজ্য নয়, দেশ জুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কাজ করছিল প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা। সুতরাং, বাংলায় যখন বদল এসেছে, তখন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব প্রবলভাবে কাজ করেছে।

    কংগ্রেস বা বামেদের ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে খুব তাড়াতাড়ি জনমত বিরূপ হয়ে গিয়েছে। কেন? কেনই বা রাজ্যবাসী এই অবস্থা থেকে বেরোতে অন্য একটি রাজনীতিক দলের ওপর ভরসা করতে শুরু করেছে? অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, কেনই বা তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারছে না?

    শুধু মমতা নয়, দলব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে বাংলায়

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যে, শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ হননি, দল ব্যবস্থা (Party System)-ই ভেঙে পড়েছে বাংলায়। বীরভূমে সম্প্রতি যে হিংসার ঘটনা ঘটল, সেটাকে পুঁজি করে রাজনীতিক দলগুলি নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই ব্যস্ত। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের জন্য লড়ছে! আর প্রথম স্থানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু এই রেষারেষি কতটা সুস্থতার লক্ষণ? মানুষের কথা কেউ ভাবে কি? 'বুদ্ধিজীবীদের ভূমি'-তে এই প্রশ্ন কি উঠবে?

    ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্থানীয় স্তরে সংস্কারের গল্প আর চলবে না আজকের দিনে

    পশ্চিমবঙ্গকে দীর্ঘদিন শাসন করেছে যারা, সেই কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট এতদিনে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে বা যুগোপযোগী করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। এরা দীর্ঘদিন ক্ষমতা ভোগ করায় এদের অন্দরে এক রকম আত্মতুষ্টি এসে গিয়েছিল বলা যেতে পারে। যে রাজনীতিক আদর্শকে ভিত্তি করে এই দুই দল ক্ষমতায় এসেছিল বা ক্ষমতা ধরে রেখেছিল, তার আজ আর কোনও মূল্য নেই। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছে, কারণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে জঙ্গি কার্যকলাপ। তা ছাড়া, স্থানীয় স্তরে লাগামছাড়া দুর্নীতির কারণে আর্থিক বা রাজনীতিক সংস্কারের কথা বলে আর চিঁড়ে ভিজছে না।

    'ভদ্রলোক সংস্কৃতি' ধসে গিয়েছে, এখন নেই বিশ্বস্ত বিকল্প

    কংগ্রেস দুর্বল হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বামেদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। আর তাতেই তারা ভুগতে শুরু করে আত্মতুষ্টিতে। এর ফলে বামেদের পতন রাজ্য রাজনীতিতে একটা বিপর্যয় ডেকে আনে। কেন? কারণ, বঙ্গদেশের রাজনীতি মূলত ছিল 'ভদ্রলোক ব্র্যান্ডের ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি'। ফলে বাংলার ভবিষ্যৎকে মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন বিশ্বস্ত বিকল্প পাওয়া যায়নি। ফলাফল: প্রতিপক্ষের নিম্নমুখী জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অথবা ছাড়তে থাকা জমি ক্রমশ দখল করে নিয়ে মসনদে কবজা জমাও। তাই এখন দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস হল বাংলায় নব্য বাম আর বিজেপি হল নব্য তৃণমূল!

    "তৃণমূলের একজন দ্বারা পরিচালিত। কী করবে, কোন পথে যাবে, তা নিয়ে দিশা নেই"

    বঙ্গদেশের মূল সমস্যা হল, এখানে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাই-ই। ছয় দশক ধরে কংগ্রেস ও বামেদের রাজত্বের পর আজকের রাজনীতিবিদরা যা আওড়াচ্ছেন, তা হল ওদের ফেলে যাওয়া ধর্মনিরেপক্ষতা, সংরক্ষিত অর্থনীতি ইত্যাদির ধারণা। এগুলি আসলে স্থবিরতা, অনুন্নয়ন ইত্যাদির সমার্থক। আর আছে গরিব মানুষের কথা বলে কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ (বামেরা গরিবদের কথা বললেও সেই গরিবদেরই সর্বনাশ করল আর তার জেরে উত্থান ঘটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের)।

    বঙ্গের রাজনীতিতে বিবিধতা নেই, হয় এই দল অথবা ওই দল

    পশ্চিমবঙ্গে কোনও স্তরের রাজনীতিতেই বিবিধতা নেই। 'হয় তুমি আমাদের দিকে অথবা ওদের দিকে', এমন মনোভাবের ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হিংসার বিরাম নেই। অতীতে কংগ্রেস ও বাম, বাম ও তৃণমূল এবং এখন তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষই সেটা প্রমাণ করে।

    বামফ্রন্টের শেষের দিকে যেমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল, এখন তৃণমূলের অবস্থাও তাই। তৃণমূলের বড় অসুবিধা হল, এটা একজন দ্বারা পরিচালিত। কী করবে, কোন পথে যাবে, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

    বিজেপি আপাতত আশা দেখাচ্ছে, কিন্তু এক পার্টিকে সরিয়ে আর এক পার্টি, এটা কোনও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়

    এখন বিজেপির ওপর বাংলার মানুষ ভরসা করছে। কিন্তু এই আসা-যাওয়া বাংলাকে রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। এ রাজ্যে অসংখ্য সমস্যা। বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং বর্ধমানে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম নিয়ে বিজেপি এখন শাসক দলকে ঠেসে ধরেছে, এটা ঠিক। তাতে ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা হতে পারে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের ফায়দা হবে না।

    রাজ্য রাজনীতিতে যদি কংগ্রেস ও বামেদের জোট হয় এবং তাতে তৃণমূল ভিড়ে যায়, তা হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই! কিন্তু মূল বিষয় হল, রাজ্য রাজনীতিতে এখন বিশ্বস্ততার (Credibility) অভাব রয়েছে। সেটা না ফিরলে একটার পর একটা রাজনীতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়া-আসা চলতে থাকবে। তাতে পশ্চিমবঙ্গ এগোবে না এক চুলও।

    English summary
    Not just Mamata but the entire system of party politics has failed in Bengal
    For Daily Alerts

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    Notification Settings X
    Time Settings
    Done
    Clear Notification X
    Do you want to clear all the notifications from your inbox?
    Settings X
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more