কাগজ বিক্রেতা থেকে ভারতরত্ন! কীভাবে 'মিসাইল ম্যান' হয়ে উঠলেন আব্দুল কালাম?
স্বপ্ন সেটা না যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন সেটাই যা পূরণ করার তাগিদ তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। এই কথা যিনি বলেছিলেন তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত হাজার কঠিন পরিস্থিতি, সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয়। কারণ ব্যক্তির নাম ডক্টর এ পি জে আব্দুল কালাম। সামান্য এক খবরের কাগজ বিক্রেতা থেকে ভারতরত্ন ডক্টর কালাম কীভাবে হয়ে উঠলেন ভারতের মিসাইল ম্যান?
আভুল পাকির জয়নুলাবেদিন আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর রামেশ্বরমে জন্মগ্রহণ করেন। কালামের পরিবার ছিলো অত্যন্ত গরিব। অল্প বয়স থেকেই পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তাকে কাজ করা শুরু করতে হয়। স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ডে কাগজ বিক্রি করতে শুরু করেন আব্দুল কালাম। এরপর স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবেশ করেন কর্মজীবনে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডি আর ডি ও-তে এরোনটিক্যাল ডেভলপমেন্ট এস্টব্লিশমেন্টে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। ছোট একটি হোভারক্রাফটের নকশা তৈরি করা দিয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু। ১৯৬২ সালে ডি আর ডি ও ছেড়ে যোগদান করেন ভারতীয় সংস্থা ইসরোতে। সেখানেই আমূল বদলে যায় তাঁর জীবন। ইসরাতে তিনি ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রাণ পুরুষ ডক্টর বিক্রম সারাভাইয়ের সংস্পর্শে আসেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় আব্দুল কালামের অভূতপূর্ব যাত্রা।
এরপর ১৯৮২ সালে ফের ডি আর ডি ও-তে প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। দেশের প্রতিরক্ষায় তাঁর নেতৃত্বেই শুরু হয় ইন্টিগ্রেটেড মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম। আর যার ফল স্বরূপ আত্মপ্রকাশ করে অগ্নি ও পৃথ্বী মিসাইল, যা দেশরক্ষায় যুগান্তকারী সৃষ্টি।
সালটা ছিল ১৯৯৮, রাজস্থানের থর মরুভূমির মাঝে ছোট্ট গ্রাম পোখরান। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী গোপনে ডেকে পাঠান ডিআরডিও-র প্রধান এপিজে আব্দুল কালাম ও আণবিক শক্তি কমিশনের ড. আর চিদাম্বরমকে। নির্দেশ দিলেন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা করা ছিল সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে অসম্ভবকে সম্ভব করার আর এক নাম এপিজে আব্দুল কালাম।
ভাবা এটমিক রিসার্চ সেন্টার, বার্ক-এর বিজ্ঞানীদের জানিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষার কথা। হাওয়াও যাতে টের না পায় এভাবে সেনা জওয়ানদের ছদ্মবেশে পোখরানে চলতে থাকে প্রস্তুতি। ১৯৯৮ সালের ১১ই মে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মরুভূমি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সুখবর দিতে ফোন করেন স্বয়ং ডক্টর কালাম। স্যার উই হ্যাভ ডান ইট, কাঁপা গলায় বলতে পেরেছিলেন তিনি। আমরা বিশ্বে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর প্রভুত্ব সমাপ্ত করলাম। একশো কোটি মানুষের দেশকে এখন থেকে আর অন্য কেউ বলতে পারবে না যে আমাদের কী করা উচিত। এখন আমরাই ঠিক করব যে আমরা কী করব। এটাই ছিল তাঁর সরকারি বিবৃতি।
বিশ্বের চতুর্থ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের মেরুদণ্ডকে মজবুত করাই ছিল তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি। এভাবেই এক কাগজ বিক্রেতা থেকে ভারতের মিসাইল ম্যান হয়ে ওঠেন ডক্টর এ পি জে আব্দুল কালাম।












Click it and Unblock the Notifications