বলে ম্যাককয়, ব্যাটে কিং-থমাস দুরন্ত! ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি ২০ সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সেন্ট কিটসে চলতি টি ২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ৮টা থেকে। টস জিতে ভারতকে ১৩৮ রানে থামিয়ে দিয়েছিল নিকোলাস পুরাণের দল। এরপর চার বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিল ক্যারিবিয়ান ব্রিগেড। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার ভারতের।
|
সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
জয়ের জন্য ১৩৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ারপ্লেতে কোনও উইকেট পড়েনি। কিন্তু সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই কাইল মেয়ার্স ১৪ বলে ৮ রান করে হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে আউট হন। ৯.৪ ওভারে দলের ৭১ রানের মাথায় আউট হন অধিনায়ক নিকোলাস পুরাণ। তিনি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শিকার। ১২.৩ ওভারে শিমরন হেটমায়ার রবীন্দ্র জাদেজার বলে কট অ্যান্ড বোল্ড। তিনি ১০ বলে ৬ রান করেন। ৩৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ৫২ বলে ৬৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং। তিনি আটটি চার ও দুটি ছয় মারেন। ১৫.৩ ওভারে তিনি আউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১০৭। আবেশ খান কিংকে বোল্ড করেন।
|
কিং-থমাসের ব্যাটে জয়
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রভম্যান পাওয়েলকে বোল্ড করে ভারতের জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন অর্শদীপ সিং। পাওয়েল ৮ বলে ৫ রান করে আউট হন দলের ১২৪ রানের মাথায়। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। প্রথম বলে ১ রান হলেও সেটি নো বল হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ রান পেয়ে যায়। ওভারস্টেপিংয়ের কারণে নো হওয়ায় পরের বল ফ্রি হিট ছিল। সেই বলে ডেভন থমাস ছক্কা মারেন। পরের বলেই চার মেরে দলকে জিতিয়ে দেন থমাস। তিনি ১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আবেশকে এদিন নেওয়া হয়েছিল রবি বিষ্ণোইয়ের জায়গায়। তিনি ২.২ ওভারে ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। অর্শদীপ সিং ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। অশ্বিন চার ওভারে ৩২, রবীন্দ্র জাদেজা ৩ ওভারে ১৬ রান খরচ করে একটি করে উইকেট দখল করেন। হার্দিক পাণ্ডিয়া ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ১টি উইকেট দখল করেন।
|
ডেথ ওভার নিয়ে
ভুবনেশ্বর কুমার ২ ওভারে ১২ রান দিলেও তাঁকে কেন রোহিত বল করতে ডাকলেন না তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। রোহিতের ব্রেন ফেড নিয়েও কেউ খোঁচা দেন। তবে ভারত অধিনায়ক এই পরাজয় নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। এই ধরনের ম্যাচ, চাপের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সতীর্থদের। পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতেও আশাবাদী রোহিত। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রান ছিল না। শেষ ওভারে আবেশকে বল করতে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ভুবনেশ্বর কুমার কেমন বোলিং করেন তা সকলেই জানেন। কিন্তু আইপিএলে ডেথ ওভারে ভালো বোলিং করা বোলারদের সুযোগ দেওয়ার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। একটি ম্যাচ খারাপ হলেই প্যানিকের কিছু নেই। তবে ১৩৮ রানের পুঁজি নিয়ে শেষ ওভার অবধি ম্যাচ নিয়ে যাওয়ায় খুশি রোহিত। বোলিং নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিভাগে রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে রোহিতের কথায়।
|
ভারতের ব্যাটিং ভরাডুবি
এর আগে, টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরাণ। ভারত ১৯.৪ ওভারে ১৩৮ রানে অল আউট হয়ে যায়। ১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে হার্দিক পাণ্ডিয়া করেন ৩১ বলে ৩১। রবীন্দ্র জাদেজা ৩০ বলে ২৭ ও ঋষভ পন্থ ১২ বলে ২৪ রান করেন। সূর্যকুমার যাদব ১১, শ্রেয়স আইয়ার ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন- দুজনেই করেন ১০। বাকিরা দুই অঙ্কের রান পাননি। রোহিত শর্মা প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। ওবেদ ম্যাককয় একটি মেডেন-সহ চার ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট দখল করেন। জেসন হোল্ডার দুটি এবং আলজারি জোসেফ ও আকিল হোসেন একটি করে উইকেট নেন।












Click it and Unblock the Notifications