Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

চোখে জল নিয়েই বাইশ গজকে বিদায় জানালেন ক্রিকেট ঈশ্বর

চোখে জল নিয়েই বাইশ গজকে বিদায় জানালেন ক্রিকেট ঈশ্বর
মুম্বই, ১৬ নভেম্বর : মহম্মদ সামির বলে ছিটকে গেল গ্যাব্রিয়েলের স্টাম্প। স্কোরবোর্ড বলছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ১২৬ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়েছে ভারত।

কিন্তু স্কোরবোর্ডের দিকে তখন আর কারও মন নেই। ততক্ষণে মহানায়ক চলেছে মহাপ্রস্থানের পথে। ২৪ বছরের বর্ণময় ক্রিকট জীবন শেষ হয়ে গেল কয়েক মুহূর্তেই। শেষবারের মতো বাইশ গজ ছেড়ে প্যাভিলিয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেট ঈশ্বর। চোখের কোণ দুটো চিকচিক করছে। কেউ যেন দেখতে না পায়, তাই মাথা নীচু করে টুপির আড়ালে মুখ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন লিটল মাস্টার। তবু লুকোতে পারলেন না মাঠ ছাড়ার যন্ত্রণা। বারবার চোখ মুছে আবেগ আটকানোর চেষ্টা করলেও তা জল হয়ে বেরেচ্ছিল তাঁর দু-গাল বেয়ে। মাঠে তখন শুধু একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সচিন...সচিন...।

সচিনের আন্তর্জাতিক জীবনের শেষ দুটি ম্যাচেই ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ইনিংস জিতে মাস্টার ব্লাস্টারকে উপহার দিল ধোনি বাহিনী। ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষে যখন সঞ্চালক রবি শাস্ত্রী সচিনের হাতে মাইকটা তুলে দিলেন, তখন মাঠে উপস্থিত দর্শকদের হাততালি, সচিন ডাকে অন্যকিছুই কানে আসছে না। "আপনারা একটু শান্ত হোন, আমায় বলতে দিন। নাহলে আমি আরও বেশি করে আবেহপ্রবণ হয়ে পড়ব।" ঈশ্বরের এই অনুরোধে কয়েকমুহূর্তেই মাঠে 'পিন ড্রপ সাইলেন্স'।

সচিন ছাড়া ক্রিকেট ভাবতে পারি,কিন্তু ক্রিকেট ছাড়া সচিন ভাবতে পারছি না : অঞ্জলি

২৪ বছরের অনবদ্য ক্রিকেটীয় জীবন, ২০০ টি টেস্ট ম্যাচ, কত না জানি রেকর্ড রয়েছে ঝুলিতে। তবুও কত সহজ, কত সাধারণ তাঁর শরীরি ভাষা। হাতে একটা কাগজ। হেসে বললেন, "আমার সচিন হয়ে ওঠার পিছনে অনেকের অবদান রয়েছে। তাদের আজ ধন্যবাদ জানাতে চাই। কাগজে লিখে এনেছি যাতে কারও নাম না ভুলবশত বাদ দিয়ে ফেলি।"

অথচ একবারের জন্যও সেই কাগজটার দিকে তাকালেন না। প্রথমেই ধন্যবাদ জানালেন বাবাকে। বাবার শেখানো কথাগুলো তুলে ধরলেন সবার সামনে। বাবা বলেছিলেন কঠোর পরিশ্রমের কোনও সর্টকাট হয়না। আমিও সেই পথেই চলেছি। গলাটা এবার যেন একটু যেন ভারী শোনাল। এবার মায়ের পালা। হাসতে হাসতে বললেন, আমার মতো দুষ্টু ছেলেকে সামলানোটা চারটিখানি কথা না। মা সেটা করেছেন।

ধন্যবাদের তালিকা থেকে বাদ গেলেন না কেউ। স্কুলজীবনে যে কাকা-কাকিমার কাছে ছিলেন, বোন, যে প্রথম কাশ্মীর উইলো কাঠের ব্যাট দিয়েছিল, ভাই, দাদা অজিত, গুরু অজিত আচরেকর, সঙ্গী-সাথীরা, কোচ, ম্যানেজের, ফিজিও এমনকি মিডিয়া কেউ বাদ পড়েননি এই অতিমানবের ধন্যবাদ তালিকা থেকে।

তখন মাঠেই ভারতীয় দলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্ত্রী অঞ্জলি, মেয়ে সারা ও ছেলে অর্জুন। সচিনের জীবনে অঞ্জলি ও তার ছেলে মেয়ে যে কতখানি জায়গা নিয়ে আছে তা বলতে এদিন এতটুকু দ্বিধা করেননি সচিন। "আমার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের ডাক্তারি পেশাকে হেলায় পিছনে ছেড়েছে অঞ্জলি। অঞ্জলির সাথেই সর্বশ্রেষ্ঠ পার্টনারশিপ আমার।" সচিনের কথায় এবার চোখ ভিজল অঞ্জলিরও।

ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালবাসা, আত্মসমর্পনের কারণে কখনও পরিবারকে সুযোগে দিতে পারেননি। গত ১৬ বছরে সারা-অর্জুনের জন্মদিন হোক বা অন্য কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান কখনও সঙ্গে থাকতে পারেননি সচিন। বললেন মেয়ের সে আক্ষেপ এবার দূর করবে বাবা।

সবশেষে নিজের ভক্তদেরকে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না। বললেন, মাঠ ছাড়লেও ক্রিকেটকে কোনওদিনও ছাড়তে পারব না। সচিন...সচিন...এই শব্দটা সবসময় কানে বাজবে। এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে আবারও ভেসে উঠল সেই চেনা ধ্বনি,সচিন...সচিন...।

ততক্ষণে প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গিয়েছে। অথচ মাঠ তখনও খাঁজে খাঁজে ভর্তি। ক্রিকেট ঈশ্বরকে এভাবে দেখার শেষ সুযোগ ছাড়তে চাইছেন না কেউই।

শেষবারের মতো একবার হাতে তেরঙ্গা নিয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করবেন সচিন। এগিয়ে এলেন ভারতের অধিনায়ক ধোনি এবং বিরাট কোহলি। কাঁধে তুলে নিলেন লিটল মাস্টারকে। সতীর্থদের কাঁধে চেপেই ঘুরলেন মাঠের চারপাশ।

প্রদক্ষিণ শেষে একবার ফের ফিরে গেলেন বাইশ গজে। মাটিতে হাত ছুঁয়ে নমস্কার সারলেন শেষবারের মতো। এর পর চোখে জল নিয়েই বাইশ গজকে বিদায় জানালেন ক্রিকেট ভগবান।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+